রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ
রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ,রমজান মাস একটি বরকতপূণ্য ফজিলতের মাস এই মাসে সারা মাস বরবত রহমত মাগফেরাত পাওয়া যায়।এখানে আমরা আলোচনা করবো কি কি কারনে রোজা ভঙ্গ হয়।এবং রোজা যাতে না ভাঙ্গে তার জন্য করনীয় কি তাও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।এই রমজান মাসে যাতে আমরা সব রোজা রাখতে পারি সে অনুযায়ী আমাদের চলতে হবে।
পেজ সূচিপত্রঃরোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ
-
রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ
-
রোজা ভঙ্গের কারনসমূহ
-
ইচ্ছাকৃত ভাবে খাবার খেলে
-
সিগারেটের ধোঁয়া গ্রহন
-
শারীরিক সম্পর্ক করা যাবে কি
-
ঋতুস্রাব বা প্রসবজনিত রক্তপাত হলে
-
ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করলে
-
ইনজেকশন বা কোন ওষুধ খেলে
-
কাউকে রক্ত দিলে বা রক্ত নিলে
-
ইচ্ছাকৃত ভাবে রোজা ভাঙ্গলে কাফ্ফারা কি
-
অনিচ্ছাকৃত ভাবে খেলে
-
ভুলবসত আরো কিছু করলে রোজা ভাঙ্গবে না
-
রোজার কিছু সতর্কতা
-
শেষ মন্তব্যঃ রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ
রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ
রোজা ভঙ্গের কারনসমূহ
রোজা ভঙ্গের কারনসমূহ সাধারনত ২টি কারন আছে ১ হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ভাবে ২.ভুলবসত ভাবে।যারা রোজা রাখে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে খুব কমই ভাঙ্গে।কিন্তু আবার ভুলবসতভাবে রোজা ভাঙ্গে না।যদি আপনার শরীর সুস্থ থাকে তাহলে আপনার উপর রোজা ফরজ আছে আপনাকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে।
রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন রোজা একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য মুসলমানরা রাখে।রোজার সময় সব জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে এবং জান্নাতের দরজা খোলা থাকে। যাই হোক আমরা জানবো আসলে কি কি কারনে রোজা ভাঙ্গে রোজা রাখলে রোজা ভাঙ্গার কারন আপনাদের জানকে হবে।
ইচ্ছাকৃত ভাবে খাবার খেলে
একজন রোজাদার যখন ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা, কোন কিছু খেয়ে নেয় তখন তার রোজা ভেঙ্গে যায়।রোজা রাখা অবস্থায় কোন মতে ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন কিছু খাওয়া যাবে না। খেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।খাবার মধ্যে যেমন:
- পানি
- যে কোন খাবার
- চা কফি
- গুল
- সিগারেট
- যে কোন কিছু খাবার যা দ্বারা আপনি তৃপ্তি পান।
সিগারেটের ধোঁয়া গ্রহন
ইচ্ছাকৃত ভাবে সিগারেটের ধোঁয়া গ্রহন করলে।কোথাও কেউ সিগারেট পান করছে আর আপনি সেখানে ইচ্ছাকৃত ভাবে আছেন আর আপনার নাক মুক দিয়ে ধোঁয়া প্রবেশ করছে।তাহলে আপনার রোজা ভেঙ্গে যাবে।
শারীরিক সম্পর্ক করা যাবে কি
আপনি যদি রোজা থাকেন আর শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান তাহলে আপনার রোজা ভেঙ্গে যাবে।এই জন্য আপনি সেহেরি খাওয়ার আগে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারেন তাহলে আপনার রোজা ভাঙ্গবে না।হাদিসে আছে রোজা মাসে আপনি শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে কিন্তু সেহেরির আগে পরে নয়।
ঋতুস্রাব বা প্রসবজনিত রক্তপাত হলে
নারীদের ঋতুস্রাব হলে রোজা রাখা অবস্থায় তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।এই জন্য সর্তক থাকতে হবে যদি ঋতুস্রাব হয় তাহলে রোজা হবে না।তখন রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।কারন তখন তো রোজাই হবে না।আবার প্রসবজনিত রক্তপাত হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।এই রকম অবস্থায় রোজা কাজা করতে হবে। রোজা পরে করতে হবে।
আরো পড়ুন এখানে ক্লিক করুনঃ প্রতি সপ্তাহে চার হাজার টাকা পযন্ত আয় করুন
ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করলে
রোজা রাখা অবস্থায় কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।এই জন্য কোন মতে রোজা রাখা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করা যাবে না।অনেক সময় দেখা যায় যে কারো কোন বিষাক্ত কিছু মুখে চলে গেলে তা বের কারার জন্য যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।
ইনজেকশন বা কোন ওষুধ খেলে
রোজা থাকা অবস্থায় কোন অসুখের জন্য কেউ যদি ইনজেকশন পুশ করে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। আবার কেউ যদি শরীরে স্যালাইন দেয় তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।এই জন্য রোজা থাকা অবস্থায় কোন ওষুধ বা স্যালাইন গ্রহন করা যাবে না।
কাউকে রক্ত দিলে বা রক্ত নিলে
কোন ব্যাক্তির শরীরে রক্ত দিলে বা কারো শরীর থেকে রক্ত নিলে রোজা ভেঙ্গে যায়।রোজা থাকা অবস্থায় এগুলো করা যাবে না।আবার কিডনি রোগির ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস করলে রোজা ভেঙ্গে যায়।
ইচ্ছাকৃত ভাবে রোজা ভাঙ্গলে কাফ্ফারা কি
কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে রোজা ভাঙ্গে তাহলে তাকে রোজার কাফ্ফারা দিতে হবে এখন কথা হচ্ছে কাফ্ফারা কিভাবে দিতে হয়।হয় রোজাদার ব্যক্তিকে লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে অথবা ৬০ জন দরিদ্র অনাহার মানুষকে পেট ভরে খাওয়াতে হবে।
অনিচ্ছাকৃত ভাবে খেলে
অনিচ্ছাকৃত ভাবে বা ভুলবসত ভাবে কোন কিছু খেলে তার রোজা ভাঙ্গবে না।এই বিষয়ে মহা নবী (স:) বলেছেন কেউ যদি ভুলবসত খেয়ে নেয় তা হলে তার রোজা ভাঙ্গবে না কারন তাকে আল্লাহ খাইয়েছেন।সে ভুলবসত খেয়ে নিয়েছে।
আরো পড়ুন এখানে ক্লিক করুনঃ আখের রসের উপকারিতা ও অপকারিতা
ভুলবসত আরো কিছু করলে রোজা ভাঙ্গবে না
ভুরবসত আরো কিছু আছে যা করলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারন ভুল করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।যেমন:
- চোখে বা কানে ড্রপ দিলে এই ড্রপ দিলে এগুলো খাদ্যনালীতে যায় না বিধায় রোজা ভাঙ্গে না।
- দাঁতের ফাঁকে সামান্য খাদ্য গিলে ফেললে
- ওযু করে নাকে বা মুখে পানি দিলে
রোজার কিছু সতর্কতা
- রোজা রাখা অবস্থায় দৃষ্টি হেফাজত করা
- খারাপ কাজে না যাওয়া
- খারাপ কাজে কাউকে উৎসাহ না দেওয়া
- বরকতের মাস সময় মত নামাজ পড়া
- অতিরিক্ত না খাওয়া
- ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন কিছু না করা যা দ্বার শরীরে রক্ত বের হয়।
শেষ মন্তব্যঃ রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ
রোজা ভঙ্গের কারণ ও করনীয় সমূহ আমরা অনেক কিছু জানলাম।রোজার মাসে এগুলো রোজা রাখলে আমরা অবশ্যই পালন করবো এবং যা বর্জনীয় তা থেকে দূরে থাকবো।১১ মাস পর বছরে একবার রোজা আসে এই রোজা সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করতে হবে।
পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।
.jpg)

.jpg)
'https://www.ekralife.com/p/terms.html'
comment url