শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন

শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন  সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারনা থাকা দরকার।আমাদের দেশে শীতকালে বেশি পরিমান শাক সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। এর পুষ্টিগুনাগুন  জানা থাকলে আমরা অনেক ভিটামিনের ঘাটতি পুরন করতে পারবো। তাই আমাদের শীতকালিন শাক সবজি বিষয়ে জানা প্রয়োজন। তাহলে চলুন আমরা শীতকালিন নানা ধরনের শাক সবজি দেখি ।


শীতকালিন সবজি যেমন উৎপাদন বেশি তেমনি কম দামেও পাওয়া যায়। শীতকালিন  সকল ধরনের  সবজি খাওয়া প্রয়োজন । আমাদের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের ঘাটটি পুরন করে। শীতকাল মানেই প্রকৃতির দান ভরপুর শাবসবজির মৌসুম । এই  সময়ের শাকসবজি যেমন সুস্বাদু তেমনি দারুন পুষ্টিগুনে ভরপুর।

পেজ সূচিপত্র্রঃ শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন

    শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন

    শীতকালিন শাক সবজিতে প্রচুর ভিটামিন থাকে এবং এ সময় সকল ধরনের শাক সবজি খেলে আমরা প্রচুর পরিমানে ভিটামিন পাবো।এধরনের ভিটামিনে ভিটামিন এ ,সি ,কে খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আমাদের শরীরের প্রচুর উপকার করে থাকে। এ সময় অনেক ধরনের শাক সবজি পাওয়া যায়। এ সময়কার শাক সবজি পুষ্টিগুনে ভরপুর থাকে এবং অনেক সুস্বাদু হয়। এর মধ্যে অনেক সবজি আছে যা আশযুক্ত থাকে আশযুক্ত খাবার খেলে কষ্টকাঠিন্য দূর হয়।

    সাধারনত শীতের হাত ধরে শীতের আগমন হয়ে থাকে। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শীতকালিন শাক সবজি রাখা দরকার।শীতকালিন শাক সবজি দিয়ে বাচ্চাদের খিচুরি খাওয়ালে অনেক পুষ্টি পাওয়া যায়। সারা বছর যে সবজি পাওয়া যায় তার মধ্যে শীতের সবজির পুষ্টিগুন অনেক এই জন্য আমরা শীতকালিন সবজি খাবো।

    শীতকালিন সবজি চাষের লিষ্ট

    আমাদের দেশে সাধারনত  কার্তিক মাসের শুুরুতে শীতের আগমন ঘটে এই সময়টা শীতকালিন সবজি চাষের জন্য উযুক্ত সময়। এই সময় টমেটো , ফুলকপি,বাধাকপ, শীম,গাজর,মুলা,মুলা সাক,ব্রকলি,পালং সাক,বেগুন,ওলকপি, মটরসুটি,ধনেপাতা আরো অনেক সবজি রয়েছে।এই জন্য  শীতকালিন সবজির উপকারিতা ও পুষ্টিগুন আমাদের জানা প্রয়োজন।শীতকালিন সবজি চাষ করে অনেকে ভালো লাভবান হয়।

     কারন শীতের আগমন ঘটলে শীতের টাটকা সবজি পাওয়া যায় এবং এর দাম বেশি থাকে তাই কৃষকের ভালো লাভ হয়ে থাকে। তবে প্রথম দিকে শীতকালিন সবজির দাম বেশি থাকলেও পরে অনেক কমে যায়।এই জন্য যারা আগাম জাতের সবজি চাষ করেন তারা একটু বেশি লাভ করতে পারে।

    নিম্নে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাক সবজির উপকারিতা ও পুষ্টিগুন দেওয়া হলো।

    ১। পালংসাক: আয়রন ও ক্যালসিয়াম ভরপুর এই শাক রক্ত সল্পতা দুর করে এবং হাড় ও দাতঁ মজবুত রাখে।

    ২।লাল শাক : এতে ভিটামিন এ ও সি থাকে যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ায় ও ত্বক ভালো রাখে।

    ৩। বাঁধাকপি:শরীরের কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রন করে  হজমে সহায়তা করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরি।

    ৪।ফুলকপি: ফুলকপিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  ও ভিটামিন সি সমৃৃদ্ধ। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

    ৫। মুলা: লিভার সুস্থ রাখে হজমে সাহায্য করে ও কোলেস্টেরল কমায়।

    ৬।গাজর: বিটা - ক্যারোটিন সমৃদ্ধ। চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ায় ও ত্বক উজ্জল রাখে।

    ৭।টমেটের: লাইকোপেন সমৃদ্ধ।হার্ট ভালো রাখে বাধক্য বিলম্বিত করে। 

    শীতকালিন  ফলমুলের তালিকা

    শীতকালীন শাক সবজি ছাড়া ও শীতকালিন বিভিন্ন ফলমূল পাওয়া যায়। আমাদের শীরিরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ায় এই সমস্ত ফলমূল গুলো হচ্ছে  কমলা লেবু,,কুল, বরই, জলপাই, আমলকি, আপেল, সপেদা, ডালিম, গাজর,। এর মধ্যে একেক রকমের ফলমূলে একেক রকম ভিটামিনে ভরপুর থাকে তাই আমাদের উচিত শীতকালিন শাক সবজি খাওয়া। ভাত বা রুটি থেকে ফলমূল খেলে অনেক গুনে ভিটামিন ও পুষ্টি পাওয়া যায়।

    আমাদের দেশে এখন আমলকি কমলালেবু ফলন  হয় যা ভিটামিন সি এর রাজা আমাদের দাতেঁর মাড়ি শক্ত রাখে এবং ত্বকের উুজ্জলতা বাড়াই।আপেলে কোষ্টকাঠিন্য ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে।ডালিম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন  ও হার্ট ভালো রাখে।



    উক্ত টাটকা সবজি ফল খেলে আমাদের শরীরের ভিটমিনের ঘাটতি পুরন হবে এবং আমরা সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারবো। শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা অপরীসিম।

    আরো পড়ুনঃকলা ও খেজুর খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

    শীতকালিন সবজির নাম

    শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন আমরা শীতকালিন সময় পেয়ে থাকি। শীতকালে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি পাওয়া যায় । নিম্নে এগুলো নাম উল্লেখ করা হলো গাজর, টমেটো, পালংশাক, ফুলকপি,  বাধাঁকপি, ধনেপাতা,আলু, লাউশাক, লাউকুমরা, বেগুন,  মটরশুটি, শিম, ব্রকলি,এই গুলো সবজির নাম তো আমরা জানলাম কিন্তু এগুলো খেতে হবে তবে আমাদের উপকারে আসবে।

    শীতকালিন সময়ে ফসল

    শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা  অনেক, আমাদের দেশে ছয় ঋতু আছে একেক ঋতুতে একেক ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে তেমনি শীতকালিন সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়।এই গুলোর মধ্যে রয়েছে  গাজর, টমেটো, পালংশাক, ফুলকপি,  বাধাঁকপি, ধনেপাতা,আলু, লাউশাক, লাউকুমরা, বগেুন,  মটরশুটি, শিম, ব্রকলি।  এই ফসলের মধ্যে কিছু কিছুু শাক সবজি বা ফসল সারা বছর পাওয়া যায়। সারা বছর পাওয়া গেলে ও সিজনের সবজি বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়।

    শীতকালিন সবজির রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা

    শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।শীতকালে যে সমস্থ রোগ হয় তার প্রতিরোধ ক্ষমতা বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন সবজিতে রয়েছে। এই জন্য আমাদের শীতকালিন শাক সবজি বেশি বেশি খাওয়া দরকার যেন আমাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একটা জিনিস লক্ষ করা যায় যেমন আনারসের সিজনে মানুষের জ্বর বেশি হয় আবার আনারস খেলে জ্বরের জন্য বেশ উপকারি। তাই সিজনাল শাক সবজি বা ফলমূল এর গুন-ই আলাদা।

    হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুকি কমায়

    শীতকালিন সবজির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি ,শীতকালিন বিভিন্ন শাক  সবজির  মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা  হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস ঝুকি কমায়। এই জন্য আমাদের শীতকালিন শাক সবজি বেশি খাওয়া দরকার।বর্তমানে হৃদরোগের হার বেড়ে যাচ্ছে এবং ডাইবেটিস এর রোগি বেড়ে যাচ্ছে এই জন্য আমাদের শীতকালিন সবজি খাওয়া প্রয়োজন।

    আরো পড়ুন:আর্টিকেল লিখে লক্ষ টাকা আয়

    শীতকালিন টাটকা সবজির হাটবাজার

    শীতকালিন সময়ে গ্রামের হাটবাজারে ভোরে ভোরে টাটকা শাক সবজি আগমন ঘটে। এই সময় প্রতিদিনের শাক সবজি প্রতিদিন খাওয়া ভালো। গ্রামীন এলাকায় কৃষকরা তাদের অঙ্গিনায় শাক সবজি লাগায় এবং টাটকা সবজি খায়। এখানে দেখা যাচ্ছে হাটরে মধ্যে অনেক ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে।


    শীতকালিন টাটকা শাক সবজি খেলে প্র্রচুর পরিমানে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন পাওয়া  যায়। এই ধরনের টাটকা শাক সবজির  উৎস হচ্ছে  গ্রামের হাটবাজার। এই জন্য গ্রামের লোকজনের শরীর সাস্থ্য ভালো থাকে যেহেতু তারা যেমন পরিশ্রম করে তেমনি টাটকা শাক সবজি খায়।

    মহিলাদের জন্য শীতকালিন শাক সবজির গুরুত্ব

    শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন যেমন বাধাকপি এবং ফুলকপি নারীদের ইস্টোজেন হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। বর্তমানে মেয়েদের স্তন ক্যান্সার বেশি দেখা যাচ্ছে তাই শীতকালিন  বিভিন্ন ধরনের সবজি খাওয়া প্রয়োজন। এছাড়া আয়রন ক্যালসিয়াম ও ফোলিক সমৃদ্ধ হওয়ায় গর্ভবতি মহিলাদের জন্য এই শাকসবজি অত্যন্ত সাহায্যকারী ও উপকারী।

    শিশুদের পুষ্টিতে শাকসবজি

    শিশুদের পুষ্টিতে শাকসবজি যেমন লাল শাক পালংশাকে আছে ভিটামিন এ এবং আয়রন যা রক্তশূন্যতা দূর করে।গাজর টমেটো চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাধাকপি , ফুলকপি , হাড় ও দাঁতের জন্য সহায়ক। সাধারনত রাতকানা, রিকেট, চর্মরোগ, স্কার্ভি প্রতিরোধে গুরুত্বপুন্য ভুমিকা পালন করে।

    প্রতিদিন কত গ্রাম শাক সবজি খাওয়া উচিত

    একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য কমপক্ষে ২৫০-৩০০ গ্রাম শাক সবজি খাওয়া উচিত । দুপুর এবং রাতের জন্য শাকসবজি রাখা ভালো। নিয়মিত শাকসবজি খেলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

    আরো দেখুন এবং শুনুন                                           


                                                

    শেষ কথাঃ শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন

    শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন, আমাদের শরীরের জন্য বেশ গুরুত্তপূন্য এটা 
    আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। আমাদের দেশের জলবায়ু শীতকালিন  শাকসবজির জন্য উপযোগী।শীতের সময় অনেক ধরনের এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিযুক্ত শাক সবজি পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয় এতে কয়েক ধরনের ভিটামিন একসাথে পাওয়া যায়। এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংক্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

    comment url
    Md. Golam Rasul
    Md. Golam Rasul
    একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।