সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা

সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা,সরিষার তেল আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ করে শীতের সময় বেশ উপকারে আসে।আগেকার নানা নানিরা সরিষার তেল ব্যবহার করতো এবং বাচ্চা থেকে বড় সবাই সরিষার তেল ব্যবহারের প্রচলন ছিল প্রচুর এই জন্য আমাদের সরিষার তেলের উপকার এবং অপকারিতা জানা প্রয়োজন।


গায়ে সরিষার তেল মাখার যে উপকারিতাি কি তা আমাদের জানা দরকার এই জন্য আমরা এই পোষ্টে জানবো যে সরিষার তেল গায়ে মাখলে কি  উপকার হয় এই পোষ্টটি সম্পূণ্য পড়ে দেখবো এর উকার এবং অপকারিতা বিষয়ে।বর্তমান সময়ে আমরা সরিষার তেল শরীরে মাখি না এই জন্য এর উপকারিতা জানতে হবে।

পেজ সূচিপত্রঃসরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা

সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা

সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা,আমরা এখন জানবো সরিষার তেলের উপকারিতা এবং এর অপকারিতা তবে এই তেলের উপকারিতা বেশি,আধুনিক যুগে অনেকে সরিষার তেল মাখে না। কিন্তু আমাদের নানী দাদীরা আগে সরিষার তেল ব্যবহার করতো এবং এর অনেক উপকারিতা পেতো কিন্তু আধুনিক যুগে এর ব্যবহার আগের মত নাই কারন এর গুনাগুন অনেকে জানে না। এই জন্য আমরা এই পোষ্টটি পড়ে জানবো সরিষার তেলের উপকারিতা এবং এর অপকারিতা।

সরিষার বীজের মধ্যে রয়েছে অ্যালাইল আইসোথায়োসায়ানেট এক যৌগ যা ঝাঝালো গন্ধের জন্য দায়ী থাকে।তাছাড়া এর মধ্যে ওমেগা-৩,ওমেগা-৬ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে,আবার ভিটামিন ই,সেলেনিয়ামসহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের সাস্থ্যর জন্য অনেক উপকারি।এই সমস্ত পুষ্টিগুন থাকার কারনে সরিষার তেল গায়ে মাখলে শরীরের জন্য বেশ উপকারে আসে।বিশেষ করে শীতের সময় সরিষার তেল মাখা প্রয়োজন।

আরো পড়ুনঃকলা ও খেজুর খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

সরিষার তেলের উপকারিতা সমূহ

আমরা সরিষার তেলের বিষয়ে কিছু জানলাম এখন আমরা সরিষার তেলের উপকারিতা সমূহ জানবো চলুন তাহলে জানা যাক সরিষার তেলের আসলে কি কি উপকার আছে।সরিষার তেলের উপকারিতা জানলে এবং এর পুষ্টিগুন জানা থাকলে আমাদের নানান কাজে আসবে। বর্তমানে আমরা অনেকে জানি না এর পুষ্টিগুন এবং এর উপকারিতা, প্রাকৃতিক শাক সবজি বা ফলমূল যাই হোক না কেন এইগুলোর পুষ্টিগুন এবং খেলে আমাদের শরীরের জন্য কি উপকার তা আমাদের অবশ্যই জানতে হবে।প্রাকৃতিকভাবে যে সমস্ত শবজি বা ফসল উৎপাদন হয় তা থেকে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন পাওয়া যায়। তা আমাদের জানতে হবে কোন শবজি বা ফসলের পুষ্টিগুন কি তাহলে আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারে আসবে।

এই রকম ক্ষেত থেকে সরিষার গাছ থেকে সরিষা নিয়ে ঘানিতে ভাঙ্গিয়ে খাঁটি তেল পাওয়া যায় এই রকম খাঁটি তেল খাওয়া বা ব্যবহার করলে উপকারে আসবে।

হৃদপৃন্ডের জন্য উপকার

সরিষার তেলে মধ্যে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে, আবার পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যেখানে এই দুই ধরনের ফ্যাট থাকে। এই ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরল পরিমান কমাতে সাহায্য করে।শরীরে কোলেস্টেরল এর পরিমান কম থাকলে আমাদের হার্টের জন্য অনেক উপকার কারন এই ফ্যাট এর পরিমান বেশি হলে হার্ট ব্লোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এতে মানুষ হার্টস্টোক করে এই জন্য সরিষার তেল পরিমান মত খাওয়া বা গায়ে মাখা ভালো। বর্তমানে হার্টস্টোক বা ব্রেন স্টোক বেশি হচ্ছে তাই যে কোন খাবার বুঝেশুনে খেতে হবে এবং পরিমান মত খেতে হবে। 

আরো পড়ুনঃহাঁটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার

শীতের সময় সরিষার তেল

শীতের সময় সরিষার তেল গায়ে মাখলে শরীর গরম থাকে।এবং সরিষার তেল শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।মাথায় হালকা গরম তেল দিলে সর্দি কমে যায়। আর আমাদের বুকে মালিশ করলে বুকে জমে থাকা কফ বের করতে সাহায্য করে। আবার ছোট বাচ্চাদের শরীরে সরিষার তেল মালিশ করলে শরীর গরম রাখতে সহায়তা করে থাকে।

 সরিষার তেল লাগালে ঠান্ডা কম লাগে জ্বর সর্দি কম হয়।এবং শিশুদের শরীর এর গঠন মজবুত হয়। এই জন্য আগেকার নানী বা দাদীরা ছোট বাচ্চাদের সকাল সন্ধ্যা খাঁটি সরিষার তের গায়ে মাখতো এবং ছোট বাচ্চাদের অসুখ বিসুখ কম হতো কিন্তু বর্তমানে বাচ্চাদের এইধরনের তেল মালিশ করা গয় না বললেই চলে তাই এখনকার বাচ্চাদের হাড় খুবই নরম থাকে।

ত্বকের জন্য সরিষার তেল

আমাদের দেশে সরিষার বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় নিয়মিত মানুষ সরিষার তেল মাখে এতে ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এই তেল আমাদের ত্বক নরম এবং উজ্জল করতে সাহায্য করে,সরিষার তেল মাখলে শরীরের রক্ত সনঞ্চালন করতে সহায়তা করে।আবার রোদ্রে পুরে যাওয়া ত্বক আগের মত ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। শরীরের রক্ত সনঞ্চালন করতে সাহায্য করে থাকে বিধায় শরীরের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ায়।আবার কেউ কেউ সরিষার তেলের সাথে মধু,লেবুর রস মিশিয়ে ব্যাবহার করে।

চুলের জন্য উপকারী

আমরা সাধারনত গোসল করার পর সরিষার তেল মাথায় মাখি এতে মাথার চুল পরা রোধ হয়।কারন এই তেলের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই,ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড যা চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পরা বন্ধ করে থাকে।মাথায় খুশকি থাকলে তা দূর করতে সাহায্য করে থাকে।চুলের উজ্জলতা বাড়ায়,স্কাল্পে রক্ত সনঞ্চালন বাড়িয়ে মাথার চুল ঘন করে।এই জন্য নিয়মিত সরিষার তেল মাখলে মাথার চুল মজবুত হয় পাশাপাশি চুলের উজ্জলতা বাড়ে,আর খুসকি কম হয়।

 কিন্তু বর্তমানে আমরা সরিষার তেল তো দূরে থাক অনেকে কোন তেল মাখি না, এতে আমাদের চুল পড়ে চুলের গোড়া দূর্বল হয়। আমরা চুলের যত্ন নেয় যখন আমাদের চুল পড়া শুরু হয় তখন এই জন্য আমাদের শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গের যত্ন নেওয়া আমাদের প্রয়োজন।

শরীরে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে

শরীরের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে থাকে।কারন এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা দ্বারা জয়েন্ট,আর্থ্রাইটিস,মাংসপেশীর ব্যাথা,সর্দি কাশির জন্য গলা ব্যাথা,এগুলাে ব্যাথা উপশম করতে সরিষার তেলের জুরি নাই।এই তেল যে কোন ব্যাথার বিশেষ করে মাংসপেশী বা জয়েন্টের ব্যাথায় মালিশ করলে সেখানে হালকা গরম হয়এবং ব্যাথা উপশম করে।

শীতের সময় শরীর গরম করতে সহায়তা করে

শীতের সময় গোসল করার আগে এবং পরে খাঁটি  সরিষার তেল গায়ে মাখলে শরীরের অনেক উপকারে আসে এবং শরীরের ত্বক মজবুত হয়।এই জন্য গ্রামের মানুষরা তারা গরম কি বা শীত তারা সারা বছর সরিষার তেল শরীরে মাখা এই জন্য তাদের শরীর ভালো থাকে। শরীরকে গরম করতে সাহায্য করে ঠান্ডা থেকে বাচায়।তাই শীতের সময় খাঁটি সরিষার তেলের জুরি নাই।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল,অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ

খাঁটি সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল,অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে থাকে। এতে জীবানু নাশক উপাদান রয়েছে। ত্বকের ছত্রাক জীবানু ধংস করে,ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে জীবানু নাশক হিসেবে কাজ করে থাকে। আবার সরিষার তেল  আর একটু লবন দিয়ে দাঁতের ব্যথায় দাঁতে দিয়ে ঘষলে ব্যথা উপশম হয়। আগেকার মানুষ এইভাবে ব্যবহার করতো তাই দাঁত শরীর ভালো থাকতো।

সরিষার তেল দিয়ে রান্না করে

সরিষার তেল দিয়ে তরকারি রান্না করে খেলেএটির মধ্যে থাকা গ্লকোসিনোলেটস উপদান থাকে যা পাকস্থলির এনজাইম বৃদ্ধি করে এতে হজম শক্তি বাড়ায়,গ্যাস এসিডিটি কমে,কোষ্ট্যকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে থাকে।আমাদের দেশে সরিষার তেল দিয়ে সালাদ,ভর্তা,খাওয়া হয় এতে হজমে অনেক উপকারে আসে।গ্রামে যাদের ঘানি দ্বারা সরিষার তেল বাঙ্গানো হয় তারা এখনো খাটি সরিষার তেল দিয়ে রান্না করা গায়ে মাখা সব কিছু এই তেল দিয়ে করে বধিায় গ্রামের মানুষের অসুখ বিসুখ কম হয় কারন তারা যেমন পরিশ্রম করে তেমনি প্রায় সবকিছু খাটি জিনিস খাই।


সরিষার তেল দিয়ে রান্না করা হচ্ছে তরকারি।এই তেল দিয়ে তরকারির স্বাদ হয় অন্যরকম,ঘাটি তেল হলে অল্প তেল দিয়ে রান্না করা ভালো হয়।আগে গ্রামের মানুষরা বেশির ভাগ সরিষা ক্ষেত চাষাবাদ হতো ঘানি দিয়ে তেলে ভাঙ্গাতো তারা সরিষার তেল দিয়ে রান্না করতো।এতে অসুখ বিসুখ কম হতো,এবং তরকারিতে স্বাদ হতো।

আরো পড়ুনঃপ্রতি সপ্তাহে চার হাজার টাকা পযন্ত আয় করুন

বিভিন্ন ধরনের আচার,সালাদ তৈরি করা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাটি সরষিার তেল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরি করা হয়। বিভিন্ন ধরনের আচারের মধ্যে যেমন,আমের আচার,জলপাই,বড়ই,চালচা,তেতুল,আরো বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরি করা হয়।খাবার এর সাথে বিভিন্ন ধরনের মখরুচি সালাদ তেরি করা হয়।যেমন টমাটো,শশা,পটল,শিম,খাটি সরিষার তেল দিয়ে আরো বিভিন্ন শবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করা হয়।

সরিষার তেলের অপকারিতা সমূহ

আমরা উক্ত আলোচনায় সরিষার তেলের উপকারিতার অনেক বিষয় জানলাম এখন এর  কিছু অপকারিতা বিষয় জানবো।যে কোন কিছু অতিরিক্ত খেলে তা উপকারিতার পরিবর্তে ক্ষতি করে এই জন্য যে কোন খাওয়া একটা লিমিটের মধ্যে খাওয়া দরকার।চলুন তাহলে এখন আমরা কিছু সরিষার তেলের অপকারিতা বিষয়সমূহ জানি।

হার্টের রোগিদের ক্ষেত্রে

সরিষার তেল বিশেষ করে হার্টের রোগিদের জন্য যদি বেশি সরিষার তেল খায়।কিন্তু পরিমান মত খেলে উপকার হবে।সরিষার তেল বেশি খেলে হৃদপিন্ডে চর্বি জমে স্টোকের ঝুকি বাড়ায়। আবার দীর্ঘসময় খেলে স্বাথ্যঝুকি বাড়ায়,লিভারের উপর চাপ পড়ে।এই জন্য সরিষার তেল খেলে ভেজাল সরিষার তেল খাওয়া যাবে না আমাদের হার্ট ঠিক থাকলে আমাদের শরীরের রক্তসঞ্চালন ঠিক থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে হার্ট স্টোক থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

অ্যলার্জির সমস্যা

কারো যদি সরিষার তেল লাগিয়ে অ্যলার্জির সমস্য দেখা যায়, তাহলে সরিষার তেল গায়ে না মাখা ভালো হবে।কারন এই তেল লাগালে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চুলকাবে,লাল হবে,বিভিন্ন ধরনের স্কিনরোগ অ্যালার্জি  জাতীয় হতে পারে।এই জন্য যাদের সরিষার তেল লাগালে অ্যালার্জি হয় তাদের ক্ষেত্রে না লাগানো ভালো।অনেকে আছে তেল মাখে ঠিকই কিন্তু ঠিক মত গোসল করে না এই জন্য কারো কারো অ্যালার্জির সমস্য বেড়ে যায়।

সরিষার তেল বেশি খাওয়া যাবে না

সব সময় সরিষার তেল পরিমান মত খেতে হবে না হলে পেটের সমস্য হতে পারে এই জন্য তরকারি বা সালাদ যাই হোক না কেন সরাাষার তেল বেশি খাওয়া যাবে না।এই তেল খাওয়া বেশি হলে পেটে অ্যাসিডিটি হবে,বমি হতে পারে,পেট ব্যথা হতে পারে।

শেষ কথাঃ সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা

সরিষার তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা,আমরা সরিষার তেলের উপকারিত এবং অপকারিতা বিষয়সমূহ জানলাম। এখন আমরা নিয়মতি সরিষার তেল গায়ে মাখতে পারি কারন এতে অনেক উপকার রয়েছে। আবার এর অপকারিতার কথা চিন্তা করে পরিমান মত ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে আমাদের ক্ষতি হবে।তবে যাই হোক তেল হতে হবে খাঁটি বর্তমান বাজারে বেশির ভাগ তেল পাওয়া যায ভেজাল এই জন্য যদি ঘানির তেল পাওয়া যায় তাহলে ভালো হবে। ভালো লাগলে আমার আরো পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংক্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন ।  



















এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

comment url
Md. Golam Rasul
Md. Golam Rasul
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।