হাঁটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার
হাঁটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার,হাঁটু ব্যথা এখন একটি কমন সমস্যা হয়ে গেছে যা প্রতিটি বাড়িতে প্রায় হয়ে থাকেএই হাঁটু ব্যথা।হাঁটু ব্যথা বিভিন্ন কারনে হতে পারে এর মধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে বয়স্ক মানুষের হাঁটু ব্যথা। যাদের বয়স ৫০ এর উপরে তাদের হাঁটু ব্যথা হয় কিন্ত কেন হয় তা আমরা এই পোষ্টটি পড়ে জানবো যে আমাদের হাঁটু কেন ব্যথা করে।চলুন তাহলে জানা যাক হাঁটু কেন ব্যথা করে।
হাঁটু ব্যথার জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।কিন্ত এর প্রতিকার আমরা সহজে পাই না। এই পোষ্টটি আমরা হাঁটু ব্যাথার কারন এবং প্রতিকার কিভাবে করা যায় তা এখানে জানবো।এখন অহরহ মানুষের প্রধান সমস্য হচ্ছে হাঁটু ব্যাথা। তাই আমরা হাঁটু ব্যথা বিষয়ে জানবো।হাঁটু কেন ব্যথা করে এবং এর প্রতিকার।
পেজ সূচিপত্রঃহাঁটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
হাঁটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
হাঁটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার,মানুষের জীবনে চলার পথে হাঁটু ব্যথা একটি কমন কথা।হাটার সময়,সিড়ি বেয়ে নামার সময়,উপরে ওঠার সময়,বা নিচে নামার সময়,জোরে হাটলে আপনার হাঁটু ব্যাথা করে। এর থেকে পরিত্রানের উপায় জানতে হলে এই পোষ্টটি আপনি ভালোভাবে পড়লে ইন্সাআল্লাহ উপকার হবে। আমাদের হাঁটু বা হাঁটুর জয়েন্ট, লিগামেন্ট,টেন্ডন,কার্টিলেজ এবং পেশীর সমন্বয়ে গঠিত থাকে।হাঁটু আমাদের একটি গুরুত্তপ্যূ অংশ যা দ্বারা আমরা চলাফেরা করতে পারি।
আমাদের হাঁটু যখন ভালো থাকে তখন আমরা যত্ন নেয় না আবার যখন হাঁটু ব্যাথা হয় তখন আমরা হাঁটু যে কি জিনিস তা টের পায়। এই জন্য আমাদের হাঁটুর যত্ন নিতে হবে।যেমন কথায় আছে দাঁত থাকতে দাঁতের যত্ন নেয় তেমনি আমাদের হাঁটু যখন ভালো থাকে তখন আমরা হাঁটুর যত্ন নেয় না। হাঁটু ব্যাথারোধ করতে আমাদেরকে প্রাপ্ত বয়স থেকে সঠিক নিয়মে ভিটামিনযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং নিযমিত ব্যাম করতে হবে শরীর সুস্থ রাখার জন্য।হাঁটু ব্যাথার মধ্যে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি হয়।হাঁটু ব্যাথায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১৫% থেকে ২০% হয়। আর মহিলার হাঁটু ব্যাথার প্রায় ২০% হয়।
আরো পড়ুনঃ বুক ধড়ফড় করার আটটি কারণ ও করণীয় কি দেখে নিন
আমাদের শরীরে হাঁটুর কাজ
বর্তমানে মানুষের হাঁটু ব্যথা বেড়ে চলছে এই জন্য এর প্রতিকার করা দরকার।আমাদের হাঁটুর জয়েন্টের বেশ কিছু কাজ আছে। হাঁটু আমাদের শরীরের ওজন সম্পূন্যটা বহন করে থাকে।শরীরের ওঠা বসা,সোজা হওয়া বাকা হওয়ার সময় হাঁটু সম্পূন্য ভার বহন করে।হাঁটু ব্যথা যদি সঠিক ভাবে বোঝা যায় যে কজন্য হয়েছে তাহলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া যায়।হাঁটু ছাড়া আমাদের হাটা চলাফেরা অচল হয়ে যায়। হাঁটুর ব্যথা হলে আমাদের অবশ্যই সঠিক ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
হাঁটু ব্যথার কারন সমূহ
হাঁটু ব্যথা একটা সাধারন আর একটা দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে।সাধারন হাঁটু ব্যথা যা তাৎক্ষনিক বা হঠাৎ হয় এবং কয় দিন বা কয়েক মাস পর ভলো হয়ে যায়।কিন্ত দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ব্যথা ধীরে ধীরে হয় এবং অনেক দিন পর্যন্ত থাকে।লিগামেন্ট ইন্জুরি বা লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়া,পা মচকে যাওয়া,ফুটবল খেলতে গিয়ে,ক্রিকেট খেলা,জোড়ে দৌড়ানো বা হঠাৎ পড়ে যাওয়া এই গুলোর ব্যথা ক্ষনস্থায়ি থাকে,কয়েকদিন বা কয়েকমাস থাকে।
বয়সজনিত বা জেনেটিক হাঁটুর ব্যথা হয়।মানুষ এর বয়স হলে সাধারনত তাদের বিভিন্ন সমস্য দেখা যায় এর মধ্যে একটা প্রধান হচ্ছে হাটু ব্যথা। করন বয়স হলে মানুষের হাড় ক্ষয় হয়,ক্যালসিয়াম সট্ হয়,কোথাও পড়ে গেলে সহজে হাড় ভেঙ্গে যায়।বয়সজনিত হাঁটু ব্যথা ৪০ বা ৫০ এর উপরে হলে বয়স্ক মানুষের অস্টিওআর্থ্রইটিস বা অস্টিওপরোসিস হয়ে হাঁটু ব্যথা করে। এর কারনে হাঁটুর হাড় ক্ষয় হয়ে যায়,এবং হাঁড়ের সাথে হাড় ঘষা খায় তখন হাঁটু ব্যথা করে থাকে।এই সময় হাঁড়ের ছদ্রিগুলো বড় হয়ে যায় এবংক্যালসিয়াম সর্ট দেখা য়ায়। আবার মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর হরমোনের পরিবর্তন হলে হাঁটু ব্যথা হয়।বয়স বাড়লে মানুষের সমস্ত ওজন বহন করে আমাদের হাঁটু এক কেজি ওজনের জন্য ৪ কেজি ওজন বহন করে। রিউমাটয়েড এবং অটোমিয়ন রোগ এর কারনে যে রোগ হয় তা জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টি করে থাকে।
আবার জেনেটিক কারনে কিছু লোকের হাটুর গঠনের কারনে বয়স হলে হাঁটু ব্যথা করে। জেনে কারনে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের হাঁটু ব্যথা করে থাকে। কেউ কেউ যদি হঠাৎ প্রতিদিন দৌড়ানো শুরু করে বা প্রতিদিন বেশি হাটে তাহলে হাঁটু ব্যথা করে। আবার অতিরিক্ত ব্যাম করলে হাঁটু ব্যথা করে।সংক্রমন জনিত ব্যথা হচ্ছে সেপটিক আর্থাইটিস ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়।সংক্রমনের ব্যথায় হাঁটু ফোলে,লাল হয়,আবার অনেক সময় জ্বর হয়ে থাকে।যেমন কিছু রোগের কারনে হাঁটু ব্যথা হয়,টিবি সংক্রমন,শশিুদের ভিটামিন ডি এর অভাব,রক্তরোগ,হিমোফিলিয়ায় জয়েন্টে রক্তক্ষরন সৃষ্টি করে তখন হাঁটু ব্যথা হয়।
হাঁটু ব্যথার প্রতিকার সমূহ
বয়স্ক মানুষের হাটু ব্যথা এখন দৈনন্দিন জীবনে একটা অংশ হয়ে গেছে। এখানে আমরা হাটু
ব্যথার প্রতিকার বিষয়ে জানবো। হাটু ব্যথার প্রতিকার সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে।
যথা ঘরোয়া পদ্ধতি এবং পেশাদার ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করা।আমরা এখানে জানবো
কিভাবে হাটু ব্যথার প্রতিকার করা যায়।
আরো পড়ুনঃ কলা ও খেজুর খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা
ঘরোয়া পদ্ধতিতে হাঁটু ব্যথা দূরার উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতি, এই পদ্ধতিতে আঘাত লাগা স্থানে বরফ লাগাতে হবে বা গরম সেক দিতে হবে
এতে করে হাঁটু ফোলা এবং ব্যথা উভয় কমবে। গরম সেক দিলে সেখানে রক্ত সঞ্চালন
প্রবাহ বাড়ে এবং ব্যথা কমে। আগে মানুষ ব্যথার জায়গায় হালকা গরম হলুদ দিতো
যা দিয়ে ব্যথা কমে যেতো এবং ফোলা কমতো।হাঁটু ব্যথা থাকলে ভারি জিনিস ওঠানো যাবে না
কারন ভারি জিনিস ১ কেজি ওঠালে হাঁটুতে ৪ কেজি সমান ওজন বহন করে থাকে। এই জন্য ভারি
জিনিস ওঠানো যাবে না।
পেশাদার ডাক্তার দেখানো
হাঁটু ব্যথায় অবশ্যই পেশাদার ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।ভালো ডাক্তার না দেখালে হাঁটু ব্যথা আরো বেশী হতে পারে।যা হাঁটুর জন্য আরো ক্ষতিকর। বয়স হলে আমাদের চলাফেরা অনেক কষ্ট হয় হাঁটু ব্যথার জন্য তাই হাঁটু ব্যথা হলে ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।যেন আমাদের হাঁটু ব্যথার সঠিক চিকিৎসা হয়।এখানে অনেকে আবার কবিরাজ দেখায় যা হাঁটুর জন্য আরো ক্ষতি হতে পারে।আর পেশাদার ডাক্তার দেখালে হাঁটুর এক্সরে করে ডাক্তার সঠিক ওষুধ লেখে দেয়। এবং এই ওষুধ খেয়ে আমাদের হাঁটু ব্যথার অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।
হাঁটু ব্যথায় ব্যায়াম করে প্রতিকার
অনেক হাঁটু ব্যথায় বিশেষ ব্যায়াম করে আমাদের হাঁটু ব্যথা ভালো হয়ে যায়। শুয়ে পা
সোজা করে ১০-১৫ সেকেন্ড ধরে রাখা ।চেয়ার ধরে হাঁটু ভাজ করে আস্তে নামা এবং উপরে
ওঠা ১০-১২ বার করতে হবে।আবার হাঁটু ভাজ করে বসে থাকা যেমন আমরা যখন খেতে বসি ঠিক
এইভাবে বসে ১৫-২০ মিনিট প্রতিদিন করলে হাঁটু ব্যথা অনেকটা কমে যায।
ব্যথা প্রতিকারে বেশি ভারি জিনিস ওঠানো যাবে না।কারন বেশি ভারি ওজন ওঠালে সহজে
হাঁটু ব্যথা কমবে না এই জন্য সহনীয় পর্যায়ে ওজন ওঠাতে হবে।
ডায়েড এবং হাঁটু ব্যথা কমায় এরকম খাবার
হাঁটু ব্যথার জন্য ডায়েড একটা বিশেষ পদ্ধতি যা করে হাঁটু ব্যথা অনেক কমানো যায়।এই জাতীয় খাবার যেমন,হলুদ,আদা,৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ আখরোট) এইগুলো খেলে হাঁটু ব্যথা অনেকটা কমে যায়।গ্লুকোসামাইন এবং কন্ড্রেটিন এই জাতীয় সাপ্লিমেন্ট আমাদের কার্টিলেজ কন্ট্রোল করে থাকে।ক্যালসিয়াম,দুধ,ডিম.,এই গুলো খাবার খেলে হাড় মজবুত হয়।আবার ,কমলা স্ট্রেবেরি,লেবু,কালোজিরা ।এই গুলো হাঁটুকে ব্যথা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুনঃ শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন
বেশি পরিশ্রম না করা
হাটু ব্যথায় যে কোন কাজ বেশি করলে হাঁটু ব্যথা বেড়ে যায়। এই জন্য যত পারা যায়,বেশি পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকা।বয়স্কদের হাঁটু ব্যথায় তাদের হাড় ক্ষয় হয় এবং হাড়ের ক্যালসিয়াম কমে যায়। তাই বয়স্কদের কাজকাম খুব সাবধানে করতে হয়। যাতে কাজের সময় হাঁটুতে প্রেশার না পরে।আর ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হবে যাতে ক্যাসিয়ামের ঘাটতি পূরন করা যায়।
শেষ কথাঃ হাঁটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার
হাঁটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার,আমরা উপরোক্ত আলোচনায় হাঁটু ব্যথার বিভিন্ন কারন জানতে পারলাম এবং সেই সাথে এর কিভাবে প্রতিকার করা যায় তা জানতে পারলাম। আমরা হাঁটু ব্যথা কমানোর জন্য উক্ত বিষয়সমূহ ফলো করবো এবং এর প্রতিকারের জন্য হাঁটু ব্যথায় যা করনীয় তা করতে হবে। তবে বর্তমানে খাবারের গুনাগুন আগের তুলনায় অনেক কম বিধায় আমরা পুষ্টিকর খাবার খেতে পারি না তবে যথাসম্ভব উক্ত নিয়ম অনুযায়ী চললে আমরা হাঁটু ব্যথা থেকে কিছু উপকার পাবো।পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।

.jpg)
.jpg)
'https://www.ekralife.com/p/terms.html'
comment url