কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়

কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়,এখানে যাওযার জন্য আমাদের বছরে একটা সময় থাকে যখন অনেক মানুষ ভ্রমনের জন্য যায়। এই সময় হচ্ছে কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত হচ্ছে পৃথীবির সর্ববৃহত সমুদ্র সৈকত। এখানে দেশি বিদেশী পর্যটকরা ভ্রমনে আসে।১২০ কিলোমিটার জুড়ে এই সমুদ্র সৈকত যেখানে গেলে মানুষ মনোমুগ্ধকর হয়ে যায়।


চলুন তাহলে জানা যাক আপনারা কোন সময় কক্সবাজার ভ্রমনে গেলে অনেক আরামদায়ক ভাবে ভ্রমন করতে পারবেন। বছরে এমন সময় আছে যে সময় কক্সবাজার গেলে জার্নি ক্ষেত্র ক্লান্তিবোধ মনে হয় না। তাছাড়া অন্য সময় গেলে ভালোমত ভ্রমন করা যায় না। আমরা এখানে জানবো যে কোন সময় কক্সবাজার গেলে আপনাদের জন্য ভালো হবে।

পেজ সূচিপত্রঃকক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়

কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়

কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়,কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত যা দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ বাংলাদেশে আসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখতে।কক্সবাজারে অনেক দর্শনীয় স্থান,হোটেল,রিসোট,ভালো খাবার দোকান,কম খরচে কোন হোটেলে থাকা,খাওয়া যায় আপনারা এখানে জানতে পারবেন। কক্সবাজারে সূর্য উদয় এবং সূর্য আস্ত দেখতে অনেক সুন্দর দৃশ্য পাওয়া  যায়।

এখানে না গেলে আপনি ঠিক মত উপভোগ করতে পারবেন না যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কি? আমরা এই পোষ্টটি পড়ে জানতে পারবো বছরে কোন সময় কক্সবাজার গেলে আমাদের জন্য ভালো হবে। অনেকের খুব বেশি জার্নি করতে বিরক্ত মনে হয়। তবে সময় এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে জার্নি দূরে হলেও মানুষ একটু সস্তিপায়।এখানে কোন সময় গেলে ভালো তা না আপনারা আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন। চলুন তাহলে জানা যাক।

আরো  পড়ুনঃ সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে 

কক্সবাজার যাওয়ার উপায়

কক্সবাজার যাওয়ার জন্য আপনি বাংলাদেশের যেখানে থাকেন না কেন আপনি বাস অথবা ট্রেনে যেকোন ভাবে যেতে পারেন সহজে।কক্সবাজার হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সমুদ্র সৈকত যা বিশ্বের যে কোন দেশ বা যে কোন জায়গা থেকে যাওয়া যায়।কোন বাসে আপনি যাবেন তার কিছু নাম দেওয়া হলো যেমন:সৌদিয়া,শ্যামলী.হানিফ,গ্রিন লাইন,মর্ডান লাইন,এস আলম,সোহাগ পরিবহন আরো অনেক আছে। এগুলো এসি বা নন এসি আছে আপনি যেটাতে ইচ্ছা যেতে পারেন।

আবার আপনি ট্রেনে যেতে পারেন। যেমন ঢাকা থেকে গেলে ঢাকা কমলাপুরে বা বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটন এক্সপ্রেস এ করে কক্সবাজার যেতে পারেন।ট্রেনে গেলে কক্সবাজার এক্সপ্রেস রাতে যাত্রা করে সকালে  পৌছায় আবার পর্যটন এক্সপ্রেস ভোরে যাত্রা করে বিকেলে পৌছায়। আপনি যেটাতে ইচ্ছা যেতে পারেন। তবে বাসে থেকে ট্রেনে গেলে একটু আরামদায়ক হয়। আবার আপনি ঢাকা টু কক্সবাজার না যান তবে আপনি ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম এবং চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতে পারেন।

কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়

কক্সবাজার যাওয়ার বছরে সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে শীতকাল কারন শীতকালে যে কোন কিছুতে জার্নি অনেক আরামদায়ক হয়। কিন্ত অনেক মানুষ বছরের যে কোন সময় যায়।কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকত বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রকম হয় এই জন্য সারা বছর মানুষ যেতে থাকে। বর্ষার সময় এক রকম,শরতের সময় এক রকম,হেমন্তের সময় বা পূর্ণিমা রাতে এক রকম দেখায়। কিন্তু সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে শীতকাল।

শীতকাল ছাড়া অন্য ঋতুতে গেলে সেখানে হোটেল ভাড়া,খাওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছুতে ছাড় পাওয়া যায়।আবার শীতকালে গেলে সব কিছুতে চড়া দাম দিতে হয়।আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেশি থাকে। কারন বেশির ভাগ সময় মানুষরা শীতকালকে বেছে নেয় এই জন্য যে এই সময় জার্নি হয় আরামদায়ক এবং সমুদ্র থাকে শান্ত। আমরা সমুদ্র সৈকত গেলে শুধু বীচে থাকি না বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। যেমন কেউ যায় সেন্টমার্টিন আবার কেউ যায় বোড বা ট্রলারে করে বিভিন্ন দীপে। এই জন্য শীতকাল সময় সমুদ্র সৈকত ভ্রমন সবচেয়ে ভালো সময়।

আরো পড়ুনঃ কলা ও খেজুর খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

কক্সবাজারে কোথায় থাকা যায়

শুধু কক্সবাজার গেলে হবে না এর জন্য থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ভালো কারন এখানে একদিনে আসা যাওয়া করলে কক্সবাজার যাওয়া না যাওয়া একই ব্যাপার।এই জন্য যাওয়ার আগে পরিকল্পনা করতে হবে যে আপনি কোথায় থাকবেন। এইখানে আপনি যদি ২দিন বা ৩দিন এর জন্য না যান তাহলে সব কিছু উপভোগ করতে পারবেন না।অফ সিজনে হোটেল বুকিং না দিয়ে গেলে হোটেল পাওয়া যায়। কিন্ত সিজনে আগে থেকে বকিং না দিয়ে গেলে হোটেল পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।

এখানে হোটেল,রিসোট,মোটেল,বিভিন্ন রেট এ বুকিং পাওয়া যায়।  এর মধ্যে ভাগ আছে যেমন প্রথম শ্রেণী হোটেল ৪ বা ৫ স্টার হোটেল ৫০০০ থেকে ৩০০০০টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। যেমন ওশেন প্যারাডাইজ,লং বীচ,কক্স টুডে,রামাদা,মারমেইড বীচ রিসোর্ট।

মিডিয়াম বাজেট এর মধ্যে ৩০০০টাকা  থেকে ৬০০০টাকা পর্যন্ত হোটেল হচ্ছে হোটেল সী ক্রা্উন,সী গাল,সী প্যালেস,কোরাল রীফ,হোটেল বীচ ওয়ে,বীচ ভিউ,

১০০০টাকা থেকে ৩০০০টাকা পর্যন্ত হোটেল যেমন, ইকরা বীচ  রিসোর্ট,উর্মি গেষ্ট হাউজ,কোরাল রীফ,মিডিয়া ইন.কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট,সেন্টমার্টিন রিসোর্ট।

উপরে উল্লেখিত হোটের ভাড়া থেকে আরো কম ভাড়ায়  থাকতে হলে বীচ এবং মেইন রোড থেকে দূরে গেলে অনেক কমে হোটেল পাওয়া যাবে। এমনিতে আপনি যদি অফ সিজনে যান তাহলে সিজনের চেয়ে অনেক কম দামে হোটেল ভাড়া পাবেন।

আবার কলাতলি বীচ থেকে একটু দূরে গেলে হোটেল ভাড়া কিছুটা কম পাওয়া যায়।এখন আপনার ব্যাপার যে আপনি কত টাকার মধ্যেহোটেল নিয়ে থাকতে চান। সব শেষে বলা যায় আপনি যদি সিজনে যান তবে সবকিছুতেই বেশি টাকা গুনতে হবে আর যদি আপনি অফসিজনে যান তবে অনেক , টাকার মধ্যে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন।


খাবার হোটেল

খাবার হোটেল সাধারনত আপনি যে হোটেলে থাকবেন সেখানেই আবাসিক হোটেলে খাবার হোটেল থাকে। এখানে আপনি তিনবেলা খেতে পারেন এবং এখানে খাওয়া ভালো হবে কারন আপনি বাহিরে যে কোন হোটেলে খেলে খাবার ভালো হতে পারে আবার না হতে পারে।একটু ভালো মানের হোটেলে থাকলে আপনার আর খাওয়ার টেনশান করতে হবে না।তবে বাহিরে হোটেলে খেলে কিছু হোটেল আছে যেমন ধানসিড়ি,পৌষি,নিরিবিলি,ঝাউবন।এগুলো মধ্যে আপনি ২০০বা ৩০০ মধ্যে ভালো কিছু খেতে পারবেন। তবে এটা সিজনের উপর নির্ভর করে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইন থেকে আনলিমিটেড টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

ভ্রমন টিপস্ এবং সতর্কতা অবলম্বন

  • বীচে বা যে কোন জায়গায় সমস্যা হলে সরাসরি ট্যুরিষ্ট পুলিশ এর সহযোগিতা নিন।
  • যে কোন গাড়িতে ওঠে কোথাও যেতে চাইলে আগে গাড়ি ভাড়া মিটিয়ে নিন।
  • কম খরচে কক্সবাজার যেতে হলে অফসিজনে যান।
  • কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার আগে দাম ভালোভাবে জানুন।
  • জোয়ারভাটার সময় দেখে সমুদ্রে নামুন।
  • স্প্রীডবোডে উঠলে বেশি দুরে যাবেন না।
  • সাতার কেটে বেশি দূরে যাবেন না। 
  • প্রচন্ড বড় ঢেউ থেকে সাবধান থাকুন।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান সমূহ দেখে নিন

  • কক্সবাজারের যেয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখুন
  • মহেশখালী দ্বীপ
  • হিমমছড়ি
  • ইনানী সমূদ্র সৈকত
  • রামু বৌদ্ধ বিহার
  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়াল্ড
  • বান্দরবন 
  • নীলাচল

সিজনের সময় গেলে গরম কাপড়

নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাস পর্যন্ত গেলে ঠান্ডা যেন না লাগে এরকম কাপড় নিয়ে যাওয়া ভালো। বাসে বা ট্রেনে যেতে রাতের বেলা অকেন শীত লাগতে পারে এইজন্য শীতের কাপড় নিয়ে যাওয়া ভালো। কারন বেড়াতে যেয়ে যদি নিজে অসুস্থ হয়ে যান তাহলে কি ভাবে বিভিন্ন স্পটে যাবেন আর উপভোগ করবেন। আর যদি অফসিজনে যান তাহলে তো দরকার নাই গরম কাপড়ের যাই হোক নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলে আপনি বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসমূহ বেড়াতে পারবেন।

শেষ কথাঃকক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়

কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময়,উপরোক্ত আলোচনায় আমরা কক্সবাজার কোন সময় যাবো তার বিষয়ে সম্পূণ্য জানতে পারলাম। আমরা যদি সিজনে যায় তাহলে আমাদের খরচ তুলনামুলক বেশি হবে। আর যদি অফসিজনে যায় তাহলে আপনার খরচ কম হবে।তাছাড়া উপযুক্ত সময় গেলে জার্নি আরামদায়ক হবে কক্সবাজার যাওয়ার যে আমেজ তা পাওয়া যাবে।কক্সবাজার যাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যাতে আপনাদের ভ্রমন সুন্দর এবং সফল হয় আর সুস্থ ভাবে ঘরে ফিরে আসতে পারেন। যাই হোক পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

comment url
Md. Golam Rasul
Md. Golam Rasul
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।