সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে

সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে,ভ্রমন পিয়াসু মানুষরা বাংলাদেশে ভ্রমন করতে অনেক পছন্দ করে।তবে কম খরচে হলে সবার জন্য ভালো হয়। এই পোষ্টটি পড়ে আমরা জানতে পারবো যে,কিভাবে কম খরচে  সুন্দরবন ভ্রমন করা যায়।সুন্দরবন ভ্রমন এক বিষ্মকর দৃশ্য আর নয়নাভরিাম চোখ জুরানো সব পশু পাখি দেখা যায় চলুন তাহলে আমরা এই পোষ্টটি সম্পূণ্য পড়ে দেখি কিভাবে কম খরচে যাওয়া যায় সুন্দরবন।


এখন আমরা জানবো যে কিভাবে আমরা সুন্দরবন কম খরচে যেতে পারি।সুন্দরবন ভ্রমন একটা আন্দময় ভ্রমন যা নিজের চোখে না দেখলে আল্লাহর কি নিয়ামত তা জানা যাবে না চলুন তাহলে জানা যাক কিভাবে কম খরচে সুন্দরবন ভ্রমন করা যায়।

পেজসূচি পত্রঃসুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে

সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে

সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে,সুন্দরবন একটা ম্যানগ্রোব বনের নাম এইটি পৃথীবির সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোব বনের নাম। এটি লবণাক্ত বনাঅঞ্চল। এই বনে রয়েছে রয়েল বেঙ্গলটাইগার,সুুন্দরবনের মোট আয়তন ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার যা যৌথভাবে বাংলাদেশে ও ইন্ডিয়ার মধ্যে রয়েছে। এটি বাংলাদেশের অংশ হচ্ছে ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার। যা খুলনা,বাগেরহাট,সাতক্ষিরার পটুয়াখালি, বরগুনার জেলার অংশ নিয়ে  মধ্যে অবস্থিত।এইটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃৃতি প্রধান করেছে। এর মধ্যে নানা প্রজাতীর পশুপাখি রয়েছে,নানান ধরনের উদ্ভিদ রয়েছে।

এই বনের ১৮৭৪ কিলোমিটা  জুড়ে নদীনালা ও বিল রয়েছে।এখানে ৩৫০ প্রজাতীর উদ্ভিদ,১২০প্রজাতীর মাছ,২৭০ প্রজাতীর পাখি,৪২ প্রজাতীর  স্তন্যপায়ী,৩৫প্রজাতীর সরীসৃপ,আর ৮ প্রজাতীর উভয়চর প্রানী রয়েছ্ এই বনের নামকরন করা হয়েছে,এখানকার সুন্দরী বৃক্ষের নামানুসারে এই বনের নাম হচ্ছে সুন্দরবন। আমরা এখানে জানবো কিভাবে আপনারা কম খরচে সুন্দরবন ভ্রমন করতে পারবেন।

সুন্দরবন ভ্রমনের উপযুক্ত সময়

নভেম্বর থেকে ফ্রেরুয়ারী মাস হচ্ছে সুন্দরবন ঘুরার উপযুক্ত সময়। এই সময় সাগর অনেক শান্ত থাকে। তাই এই সময় ভ্রমনের উপযুক্ত সময় ধরা হয়।খুলনা এবং মংলা থেকে সবচেয়ে কাছে হয়। সুন্দরবন ভালোবাবে উপভোগ করতে হলে সুন্দরবনের গহীনে গেলে ভালো উপভোগ করা যায়।এই বনে অনেক উচু উচু বৃক্ষ রয়েছে এবং বিচিত্র ধরনের পশুপাখি,সাপ দেখা যায় অনেক কাছ থেকে। এর গহীনে অনেক সময় দেখা মেলে রয়েল বেঙ্গলটাইগার যা বনে গেলে আমরা সচোখে দেখতে পারি।

সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান সমূহ জানা যাক

সুন্দরবনের গহীনে যেতে হলে বনের ফরেস্ট গাড থাকে যারা অনেক দর্শণীয় স্থান সমূহ ঘুড়ে দেখাতে সাহায্য করে থাকে। আমরা এখন সুন্দরবনের দর্শণীয় স্থানসমূহ বিষয়ে জানবো যে সুন্দরবনের ঘুড়ে বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান। এই বনে খুলনা,মংলা,বাগেরহাট, দিয়ে ভালো ভালো জায়গায় যাওয়া যায়।

করমজল
করমজর হচ্ছে মংলা থেকে সবচেয়ে কাছে। এখানে হরিণ,কুমির এর জন্য প্রজনন কন্দ্রে ধরা হয়। এখানে কাঠের ব্রিজ তৈরি করা আছে যা দিয়ে মানুষ অনায়েসে যেতে পারে।এখানে বিভিন্ন প্রজাতীর কুমির,হরিণ,এবং নানা ধরনের গাছপালা দেখা যায়।

কটকা
কটকা, সাগরের কোল ঘেষে কটকা অবস্থিত। কটকা ফরেষ্ট স্টেশনের দক্ষিনে বঙ্গপোসাগর।এখানে পর্যটকদের বনের ভিতর যাওয়ার জন্য কাঠের তৈরি রাস্তা আছে যা দিয়ে মানুষ হেটে যায়। এই রাস্তা দিয়ে গেলে অনেক হরিণের দল দেখা যায়।আরো এখানে কেওড়া গাছের বন দেখতে পাওয়া যায়।

হাড়বারিয়া
হাড়বারিয়া মোংলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ওয়াচ টাওয়ার আছে এখান থেকে পুরো হাড়বাড়িয়া দেখা যায়। এখানে কাঠের পুল আছে ঘুড়ে বেড়ানোর জন্য । এখানে বনের ভিতর দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়। এবং বনের ভেতরের অনেক সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। এইগুলো বনে গেলে বোঝা যায় যে আল্লাহর কতো না নেয়ামত পৃথীবিতে আছে।

কটকা বিচ
কটকা বিচ,কটকা থেকে হেটে গেলে কিছু দূরে দেখা যায়,কটকা বিচ সমুদ্র সৈকত বা বঙ্গপোসাগর, এখানে পাওয়া যাবে লাল কাকড়ার শিল্পকর্ম যা দেখতে অনেক সুন্দর মনে হয় যেন কোন শিল্পি একেছে যেন তার মনের মাধুরি মিশিয়ে।

জামতলা বিচ
কটকার কাছে থেকে জামতলা বিচ দেখা যায়, এইখানে টর্যটকদের জন্য টাওয়ার রয়েছে,এখান দিয়ে সুন্দরবনের অনেক অংশ দেখা যায়। এখানে অনেক সময় দেখা মেলে হরিণ,বা রয়েল বেঙ্গলটাইগার। জামতলা হাট থেকে আবার জামতলা বিচে যাওয়া যায়।

হীরন পয়েন্ট
হীরন পয়েন্ট, অনেক সুন্দর সুন্দর কাঠের তৈরি রাস্তা আছে যা দিয়ে দর্শনার্থীরা হীরন পয়েন্টে অনেক ভালো ভালো জায়গা দেখতে যায়। এখানে দেখতে পাওয়া যায়,বানর,গুইসাপ,কুমির, আবার অনেক সময় দেখা যায় আমাদের বাঘ রয়েল বেঙ্গলটাইগার।

দুবলার চর
দুবলার চর অনেক সুন্দর একটা বেড়ানোর স্থান, এখানকার নদী গিয়ে মিশে গেছে সমূদ্রের সাথে। এই চর সুটকি মাছের জন্য বিখ্যাত, এখানে হিন্দু ধর্মের পূণ্যস্নান, এবং মেলা হয়।অক্টোবর থেকে ফ্রেবুয়ারী পর্যন্ত অনেক জেলেরা এখানে মাছ ধরে এবং মাছ দিয়ে শুটকি বানায়। এই শুটকি আবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায় ব্যবসার জন্য এখান থেকে প্রচুর আয় হয় জেলেদের।


হীরন পয়েন্ট যেখানে কিছু হরিণ এবং গাছে বানর আর একটু দূরে বাঘ আসছে হয়তো বা হরিণ শিকার করতে পারে এই রকম এক সুন্দর দৃশ্য সচোক্ষে দেখতে কার না ভালো লাগে, এইগুলো আল্লাহর এক নিয়ামত।

সুন্দরবন আপনি কিভাবে যাবেন

সুন্দরবন সবসময় গুরুপ করে যাওয়া ভালো,কারন সুন্দরবনের ভেতরে একা যাওয়া ঠিক হবে না।এই জন্য একসাথে দল বেধে যাওয়া ভালো। অবশ্যই বনের ভেতরে যেতে হলে সেখানে ফরেষ্ট অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয় এবং নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ফরেষ্ট গার্ড নিয়ে যেতে হয়। এই গুলো জায়গা যেতে টলার বা বোডে করে যেতে হয়। সব থেকে  ভালো হয় আপনি যদি কোন টুরিস কোম্পানির সাথে যান এতে আপনার খরচ কমবে আবার অনেকজন থাকলে ভয় কম থাকে। এতে আপনার খাবার চিন্তা করতে হবে না।

সুন্দরবন যেতে চাইলে আপনি খুলনা হয়ে যেতে পারেন আবার মোংলা হয়ে যেতে পারেন। খুলনা যেতে চাইলে আপনি বাসে যেতে পারেন আবার ট্রেন এ যেতে পারেন এখন ট্রেন বা বাস ভাড়া আপনি ঘরে বসে জানতে পারবেন মোবাইল থেকে সহজে।আপনি বাংলাদেশের যেখান থেকে আসেন না কেন খুলনা বা মোংলা আসবেন তার পর এখান থেকে সুন্দরবন যাবেন। তবে এখন খুলনা বা মোংলা যাওয়া এখন খরচ কম হবে কারন এখন বিভিন্ন জায়গায় ব্রিজ হয়ে গেছে এবং অনেক কম সময় লাগে।

সুন্দরবন  ভ্রমণ করার খরচ

সুন্দরবন ভ্রমন খরচ আপনার উপর নির্ভর করে যে, আপনি যদি বিলাশবহুল জাহাজে যান তাহলে খরচ বেশি হবে  এইটা স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্ত যদি আপনি যদি নরমাল জাহাজে  যান তাহলে খরচ কম হবে। সাধারন  জাহাজে মোটামোটি ৭০০০/= থেকে ১২০০০/= আবার বিলাশবহুল জাহাজ এ ১৫০০০/= থেকে ২৫০০০/= লাগতে পারে।এই প্যাকেজে সাধারনত ২ রাত ৩ দিন,অথবা ৩ রাত ৪ দিন হতে পারে। 

আবার আপনারা অফিস স্টাফ যদি ৪০থেকে ৫০ জন হয়ে যান তাহলে নিজেরাই একটা ছোট লঞ্চ নিয়ে যেতে পারবেন। এই ক্ষেত্র খরচ কম হবে আপনাদের হাতে আপনারা যেমন লঞ্চ নিবেন তেমন খরচ হবে আবার খাওয়ার খরচ আপনাদের উপর নির্ভর করবে।

সুন্দরবন ভ্রমন খরচ

ট্যুর এজেন্সির সাথে গেলে প্যাকেজের ভেতরে সমস্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে কিন্ত আবার নিজেরা গেলে সব জায়গায়  নিজেদের খরচ লাগবে। যেমন অভয়ারণ্য এলাকায় দেশি পর্যটকদের জন্য জনপতি ফি ১৫০ টাকা,ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৩০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১৫০০টাকা  অভয়ারণ্যর বাহিরে দেশি পর্যটকদের ফি ৭০ টাকা ছাত্রছাত্রীদের ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ১০০০ টাকা। এবং গবেষকদের জন্য ফি ৪০ টাকা। এখানে এই খরচসমূহ হচ্ছে নিজ্বস গাড়ি ভাড়া ছাড়া।


সুন্দরবনে গিয়ে কোথায় থাকবেন

সুন্দরবনে গিয়ে আপনি যদি সুন্দরবন ভালোভাবে উপভোগ করতে চান তাহলে আপনি সুন্দরবনের সাথে বেশ কিছু রিসোট আছে আপনি চাইলে এখানে নিদির্ষ্ট খরচ দিয়ে থাকতে পারেন। এবং সুন্দরবন উপভোগ করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে সুন্দরবনের আশেপাশে এলাকায় আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেন এবংসুন্দরবন উপভোগ করতে পারেন। তবে রিসোট থেকে আপনি আবাসিক হোটেলে কম টাকা দিয়ে থাকতে পারেন।

আবার যদি আপনারা ৪০ বা ৫০ বা তার বেশি লোকজন যান তাহলে একটা লঞ্চে থাকার ব্যবস্থা থাকে আপনি লঞ্চে কেবিন নিয়ে থাকতে পারেন। এখানে আপনি ফ্যামিলি নিয়ে থাকতে পারেন । আবাসিক হোটেলে থাকতে চাইলে সুন্দরবনের আশেপাশে থাকা ভালো হবে কারন যাতায়াত করার ভাড়া  খরচ অনেক টা আপনার বেচে যাবে।

সুন্দরবন ভ্রমনের কিছু টিপস্সমূহ

  • টেলিটক সিম নিয়ে গেলে ভালো কারন কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।
  • শীপে ওঠার আগে আপনার  সব কিছু গুছিয়ে নিন
  • বিশুদ্ধ পানি খাবার কাছে রাখুন
  • প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু ঔষুধ কাছে রাখুন
  • সুন্দরবন ভালোভাবে ঘুরতে হলে ২ বা ৩ দিনের প্যাকেজ নিন 
  • ভ্রমন খরচ কমাতে চাইলে ছুটির দিন এড়িয়ে চলুন
  • আপনার সাথে আপনার আইডি কার্ড রাখুন
  • ট্যুর গাইডের কথামত চলুন
  • ফরেষ্ট অফিস থেকে ভালো নিরাপত্তা প্রহরি সাথে রাখুন
  • সুন্দরবনের ভেতরে কোন পশুপাখি মারবেন না মনে রাখবেন এইগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদ।

শেষ কথাঃসুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে 

সুন্দরবন ভ্রমণ কম খরচে,আমরা এখন জানতে পারলাম এখন আপনাদের ব্যাপার যে আপনারা কিভাবে সুন্দরবন যাবেন।যাক সুন্দরবন ভ্রমনের জন্য আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি যা দ্বারা আপনারা অতি সহজে বা আপনার ইচ্ছামত যেতে পারবেন উপরের পোষ্টটি পড়ে আপনি অনেক কিছু সুন্দরবন ভ্রমন বিষয়ে জানতে পারলেন যে কি ভাবে সুন্দরবন ভ্রমন করা যায়। ভালো লাগলে আমার আরো পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংক্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন ।  

 


 




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

comment url
Md. Golam Rasul
Md. Golam Rasul
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।