ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন

ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন,ইতালি এখন ইউরোপের মধ্যে অন্যতম এক আকর্ষনীয় গন্তব্য স্থান এবং প্রবাসিদের জন্য কাজ বা যে কোন চাকরির জন্য অন্যতম দেশ যেখানে গিয়ে মানুষ প্রচুর টাকা ইনকাম করে থাকে।আমরা এখন দেখবো যে কিভাবে ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করতে হয় এবং কিভাবে যাওয়া যায়।

এটা হচ্ছে ইতালির রাজধানী রোম শহর,ব্যস্ততম এই শহরে অনেক প্রবাসি ভাইরা গিয়ে টাকা ইনকামের জন্য কেউ কেউ জীবনের ঝুকি নিয়ে পাড়ি দেয়। আবার কেউ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে ইটালি পাড়ি দেয়।চলুন তাহলে জানা যাক কিভাবে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া যায়।

পেজ সূচিপত্রঃইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন

ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন

ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন,ইতালি পরিচিতি.ইতালি দক্ষিণ ইউরোপের একটি ঐতিহাসিক এবং সংস্কৃতিমন্ডিত দেশ যা রন্ধনশিল্প,ফ্যাশান, আর প্রাচীন রোম সভ্যতার জন্য বিখ্যাত,এর রাজধানির নাম রোম এখানকার মুদ্রার নাম ইউরো,বুট আকৃতির ভূখন্ড যা ভেনিসের মত ভাসমান শহর।এখানে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এবং মাইকেল এঞ্জেলোর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। সীমান্ত দেশ সমূহ হচ্ছে সুইজারলেন্ড,ফ্রান্স,অস্ট্রিয়া,স্লোভেনিয়া।

ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের দেশ,যেখানে ধর্মীয় প্রভাব সুস্পষ্ট।এখানে মুসলিমের সংখ্যা কম।জনসংখ্যা প্রায় ৬ কোটি,এখানকার জনগন উন্নত জীবনযাপন করে।এখানে প্রতি বছর অনেক পর্যটক ইতালির দর্শনীয় স্থানসমূহ বেড়াতে যায়। বাংলাদেশের তুলনায় ইতালির মুদ্রার মান অনেক বেশি,বাংলাদেশে ১৪৩ টাকা ইতালিয়ান ১ টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রয়ারী মাসে কৃষি,পর্যটন. অন্যান্য খাতে অনেক লোকজন নেওয়া হবে। চলুন তাহলে আমরা এখন জানবো ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কিভাবে করবেন।

সঠিক ভাবে ইতালি কি করে যাবেন

ইতালি যাবার জন্য আপনাকে সঠিক পদ্ধতি জানতে হবে, যাতে আপনি ইতালি যেয়ে কোন ভগান্তির মধ্যে না পরেন।যে গুলো কাগজপত্র লাগবে এবং যেভাবে আবেদনের পদ্ধতি থাকবে সেভাবে আপনাকে আবেদন করতে হবে।আপনি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যাবেন,আর আবেদনে কোন সমস্যা হয় তাহলে আপনার সমস্ত টাকা বৃথা যাবে। এই জন্য আপনি যদি আবেদনের কিছু না জানেন তাহলে কোন সঠিক লোককে দিয়ে আবেদন করাবেন।

অথবা কোন পরিচিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করবেন আর সে এজেন্সির মাধ্যমে যাবেন।আপনি যদি ইতালি সঠিকভাবে পৌছে কোন কাজ বা চাকরি পান তাহলে কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।তবে ইতালি সঠিক পথে যাওয়া ভালো কারন এতে জীবনের ঝুকি কম থাকে, আর আপনি যাবেন টাকা ইনকাম করতে। আর যদি  টাকা ইনকাম করতে যেয়ে বড় ধরনের বিপদের সম্মক্ষীন হন তাহলে তো সবই যাবে। আপনার সপ্ন, সপ্ন -ই থেকে যাবে।


আপনি কি ভাবে আবেদনের অনুমোতি পাবেন

আপনার ইতালি যাওয়ার অনুমোতি কিভাবে পাবেন তার আলোচনা আমরা এখন করবো,ইতালিতে আপনার কেউ থাকলে বা কোন কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ থাকলে সেখান থেকে আপনি চাকরির অনুমতি পেতে পারেন। আবার আপনার আত্মীয় স্বজন থাকলে তাদের কাছ থেকে কোন কোম্পানীর মাধ্যমে আপনি কাজের বা চাকরির অফার পেতে পারেন।আপনি যদি এভাবে কাজের বা চাকরির অনুমোদন পান তাহলে আপনি ইতালি যেয়ে সরাসরি চাকরি বা কাজ পাবেন।

 এতে আপনার কোন ভোগান্তি পোহাতে হবে না।এবং এই ধরনের কাজ  বা চাকরির ক্ষেত্রে আপনি সবকিছুু জেনে যাবেন যে আপনি ইতালি যেয়ে কি কাজ করবেন,কোথায় থাকবেন,ইতালির কোন জায়গায় থাকবেন আপনি অনায়েসে ভিসা নিয়ে ইতালি যেতে পারবেন। এই জন্য আপনার কোন টেনশান থাকবে না।

ইতালিতে কাজের অনুমতি পাওয়া যায় দুইভাবে যথা

  • নুল্লা ওস্তা: অর্থাৎ ইতালিতে ইমিগ্রেশন অফিস থেকে কাজের জন্য অনুমোদন পাওয়া। এখান থেকে কাজের অনুমতি পেলে আপনি ইতালি যেয়ে কাজ পাবেন এতে আপনার কোন হয়রানি হবে না।
  • ওয়ার্ক ভিসা:এটা হচ্ছে যে, যে দেশে থাকেন সে দেশে অবস্থিত ইতালিয়ান দূতাবাস থেকে ভিসা আবেদন করা।

ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদনের ধাপসমূহ

ইতালি যাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধাপ বা প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হবে।যা আমরা এখন আপনাকে এই বিষয় সমূহ উল্লেখ করবো। এবং আপনি এই ধাপ বা প্রক্রিয়া অনুসরন করে আপনার গন্তব্য ইতালি অনায়েসে যেতে পারবেন।
  • আগে আপনাকে ইতালিতে চাকরি সংগ্রহ করতে হবে:
  • আপনাকে প্রথমে ইতালিয়ান কোন বৈধ কোম্পানীতে বা সেখানকার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আপনার চাকরির অফার পেতে হবে।
  • নুল্লা ওস্তা:
  • নুল্লা ওস্তা হচ্ছে ইতালির ইমিগ্রেশন অফিস কর্তৃক প্রদান করা কাজের জন্য অনুমোদন পত্র।এটি ছাড়া ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যায় না।নুল্লা ওস্তা সঠিক হলে আপনার কাজের জন্য আর চিন্তা করা লাগবে না।
  • দূতাবাসে নিজের কাজের জন্য ভিসা আবেদন করা:
  • আপনার নুল্লা ওস্তা যখন আপনি পাবেন তারপর আপনাকে আপনার নিজ দেশে ইতালিয়ান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
  • আপনার সাক্ষাৎকার এবং বায়োমেট্রিক:
  • আপনাকে আপনার  ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার  দিতে হবে এবং আপনার বায়োমেট্রিক প্রদান করতে হবে। 
  • আপনার সবকিছু ঠিক থাকলে ভিসা অনুমোদন:
  • আপনার নুল্লা ওস্তা,সাক্ষাৎ, বায়োমেট্রিক, সমস্ত ডাটা ঠিক থাকলে আপনাকে ইতালি যাওয়ার  ভিসা অনুমোদন দেওয়া হবে।
  • বাংলাদেশসহ অনেক দেশের জন্য  ২০২৫-২০২৬ সালের বিশার কোটা ঘোষনা করা হয়েছে।

ভিসা আবেদনের সময় আপনার জন্য যা লাগবে তা নিম্নে দেওয়া হলাে

  • ভিসা আবেদন ফরম
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • নুল্লা ওস্তার মূল কপি
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • কাজের চুক্তিপত্র
  • মেডিক্যাল সার্টিফিকেট
  • কাজের অভিজ্ঞতা সনদ
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা
  • ভিসা ফি জসার রশিদ
  • উল্লেখিত কাগজপত্র সমূহ লাগবে আপনি যখন আবেদন করতে যাবেন।এগুলো কাগজপত্র ঠিক থাকলে আপনি আবেদন করতে পারবেন।

ইতালি ওয়ার্ক ভিসার জন্য খরচসমূহ

  • ভিসার ফি দিতে হবে প্রায় ১৫০ বা ২০০ ইউরো
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • মেডিক্যাল সার্টিফিকেট
  • এজেন্সি ফি 
আপনার ভিসা প্রসেসিং কত সময় লাগবে:
  • আপনার কাজের নুল্লা ওস্তার সময় লাগবে ১ মাস অথবা ৩ মাস লাগতে পারে।
  • ভিসা প্রসেসিং ১৫ দিন বা ৪৫ দিন লাগতে পারে।
  • সব মিলিয়ে আপনার ভিসা প্রসেসিং হতে ৪ মাস বা ৫ মাস লাগতে পারে।
ইতালি যাওয়া পর আপনাকে যা করতে হবে:
  • ইতালি যাওয়ার পর আপনাকে সেখানকার কমিউন অফিসে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।তারপর আপনাকে ট্যাক্স নং সংগ্রহ করতে হবে।

ইতালি ভিসার জন্য কিছু সতর্কতা

  • ভুয়া কাজ বা চাকরির অফার থেকে নিজেকে সাবধান হতে হবে।
  • ভিসার জন্য আগে টাকা দিবেন না,আগে ভিসা পাবেন তারপর সবকিছু যাচাই বাচাই করার পর টাকা দিবেন।
  • বৈধ নিয়োগকর্তা অথবা সরকারিভাবে গেলে ভালো হয়।কারন বৈধ নিয়োগকর্তা না থাকলে আপনার কাজ তো দূরে থাক আপনার সবটাকা ক্ষতি হবে।
আপনি যে দেশে যান না কেন বৈধ পথে গেলে আপনার কাজের বা চাকরির কোন চিন্তা থাকবে না বরং আপনি সেখানে গিয়ে কাজ বা চাকরি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন আপনার সপ্নটা সফল হবে। কারন বিদেশ যাওয়ার সময় অনেকে অনেক টাকা অনেকের কাছ থেকে ধার করে নিয়ে যায়। আর যদি আপনি ইতালিতে গিয়ে আবার ফেরত আসতে হয় কাজ না পেয়ে তাহলে আপর শুধুক্ষতি হবে।

ইতালি কাজের জন্য যে ভিসা দেওয়া হয় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো

  • কৃষি।
  • পর্যটন খাতে, মেয়াদ সাধারনত ৬-৯ মাস হয়।
  • কনস্ট্রাকশন।
  • কেয়ারভিগার।
  • ফ্যাক্টরিতে।
  • ব্যবসা।
  • ফ্রিল্যান্স কাজ।
  • হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট
  • আরো অনেক খাত রয়েছে।
আপনি যদি নির্দিষ্ট খাতে চাকরি নিয়ে ইতালি যান, তবে আপনার জন্য ভালো হবে কারন আপনি সেখানে যেয়ে কাজ পাবেন থাকার বাসস্থান, এতে আপনার কোন সমস্য হবে না।এমন ও অনেক সময় হয় যে আপনি কারো মাধ্যমে ইতালি গেছেন আর সেখানে গিয়ে দেখেন যে আপনার কাজ পেতে এখনো কয়েক মাস লাগবে তাহলে এভাবে না যাওয়া ভালো বরং কাজ নিয়ে যাওয়া- ই উত্তম হবে।

ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য যেগুলো যোগ্যতা লাগে

  • পাসপোর্ট বৈধ থাকতে হবে যার মেয়াদ ২ বছর হতে হবে।
  • শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।
  • ইতালির কোন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বৈধ জব অফার থাকতে হবে।
  • কোন অপরাধে জড়িত থাকা যাবে না।
  • বয়স সীমা থাকতে হবে ১৮-৪৫ বছর।
  • যে কাজ করবে তার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শেষ কথাঃইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন

ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন,ইতালি ওয়ার্কপারমিট  ভিসার জন্য আপনি উপরে অনেক কিছু জানতে পারলেন যা থেকে এখন আপনি নিজে ইতালি যেতে চাইলে আপনার দ্বারা ইতালি যাওয়ার জন্য অনেক কাজ করতে পারবেন।এবং বুঝতে পারবেন যে আপনি কোন পথে ইতালি যাবেন এই জন্য আপনাকে দেখেশুনে কাজের ভিসা আবেদন করতে হবে।পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।

 















 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

comment url
Md. Golam Rasul
Md. Golam Rasul
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।