শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি
শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি,শীত মানে পিঠার আনান্দ আর পিঠা খাওয়ার ধুম,এই সময় গোটা বাংলাদেশ এ শীতের আমেজে বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির উৎসব মূখর পরিবেশ দেখা যায়।সারা বছর মানুষ পিঠা খায় কিন্তু শীতের মত পিঠার মজা পাওয়া যায় না।কারন এই সময় পিঠার বিভিন্ন ধরনের চাউল,খেজুরের গুড়,রস,আরো বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায়।
পেজ সূচিপত্রঃশীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি
-
শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি
-
ভাপা পিঠা,উপকরন,তৈরির পদ্ধতি
-
চিতাই পিঠা,উপকরন,তৈরির পদ্ধতি
-
পাটিসাপটা পিঠা,উপকরন,তৈরির পদ্ধতি
-
দুধ পুলি পিঠা,উপকরন,তৈরি পদ্ধতি
- তেলের পিঠা তৈরি
-
পাকান পিঠা,উপকরন,তৈরি পদ্ধতি
- নকশি পিঠা তৈরি
- আলু পাকোন পিঠা তৈরি
- ঝিনুক পিঠা তৈরি
-
বকুল পিঠা উপকরন,তৈরি পদ্ধতি
-
শেষ কথাঃ শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি
শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি
ভাপা পিঠা,উপকরন,তৈরির পদ্ধতি
চিতাই পিঠা,উপকরন,তৈরির পদ্ধতি
পাটিসাপটা পিঠা,উপকরন,তৈরির পদ্ধতি
পাটিসাপটা পিঠা তৈরি খুব সহজ এবং রান্নাতে ঝামেলা কম।এই পিঠা শহরে এবং গ্রামে সব জায়গায়র মানুষরা পছন্দ করে।এই পিঠা তৈরি করতে যেসব উপকরন লাগে তা হলো ময়দা,চালের গুড়া,ডিম,দুধ,নারকেল,এবং গুড়ের পুর বা গুড়ের ঝোল যেটাকে বলা হয়।এটি তৈরি করতে ময়দা,চালের গুড়া,দুধ,ডিম সব একসাথে মিশিয়ে পাতলা মিশ্রন তৈরি করাহয়। তারপর এটিকে তাওয়াতে পাতলা করে দিয়ে তার মধ্যে নারকেল ও গুড়ের পুর দিয়ে রোল তৈরি করতে হবে।এটাই হচ্ছে পাটিসাপটা পিঠা।
দুধ পুলি পিঠা,উপকরন,তৈরি পদ্ধতি
দুধ পুলি পিঠা একটি অন্যতম পিঠা যা প্রায় সবার কাছে প্রিয় পিঠা। দুধ পুলি মানে বোঝা যাচ্ছে দুধের মধ্যে দেওয়া পিঠা।এই পিঠাটি তৈরি করা খুব কঠিন না।এর মধ্যে লাগে চালের গুড়া,নারকেল,দুধ,গুড়,এলাচ।এই সমস্ত উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় দুধ পুলি পিঠা এখন এটা কিভাবে তৈরি হয় আমরা তা জানবো।
প্রথমে চালের গুড়া পানি দিয়ে মিশিয়ে ছোট পুলি তৈরি করে এতে নারকের ও গুড়ের পুর দিয়ে ভরে তারপর দুধ আলাদা করে জ্বাল দিয়ে তার মধ্যে পুলি গুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।এবং এর মধ্যে এলাচ দুধে থাকে।এভাবে তৈরি করা হয় দুধ পুলি পিঠা।এই পিঠা একবার দেখলে সবাই তৈরি করতে পারবে।
আরো পড়ুনঃ হাঁটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার
তেলের পিঠা তৈরি
তেলের পিঠার জন্য চালের গুড়া,খেজুরের গুড়,দুধ,তেল লাগবে।এই পিঠা তৈরি করতে চালের গুড়া,গুড়,দুধ,পানি সব মিশিয়ে ঘন বাটার তৈরি করে এটাকে তেল গরম করে তেলের মধ্যে ছাড়তে হবে।এই পিঠার বাহিরের অংশ থাকে একটু শক্ত আর ভিতরের অংশ থাকে নরম এইতো পিঠা তৈরি হয়ে গেল। এই ধরনের পিঠায় যেমন খরচ কম এবং খাটনি কম হয়।এই পিঠা যাদের গ্যাস্টিক এর সমস্যা আছে তাদের কম পরিমানে খাওয়া ভালাে।
পাকান পিঠা,উপকরন,তৈরি পদ্ধতি
এই পিঠা তেলে ভাজা হয়।এর মধ্যে চালের গুড়া,গুড়,এই গুলো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে শক্ত করে সানা হয়।তারপর একে বিভিন্ন আকারে কেটে তেলের মধ্যে ভাজা হয়ে থাকে।এই পিঠা অনেকদিন পর্যন্ত রাখা যায়। এটা একটু শক্ত বিধায় বয়স্কদের জন্য চিবিয়ে খাওয়া কষ্টকর হয়। এই পিঠাতে খরচ কম হয়।অনেকে কারো বাড়ি বেড়াতে গেলে এই পিঠা তৈরি করে নিয়ে যায়।
নকশি পিঠা তৈরি
নকশি পিঠা এটাতে বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি করা হয়।কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বেশিরভাগ গ্রামের দিকে এই পিঠা তৈরি হয়।পিঠার গায়ে বিভিন্ন রকমের নকশা তৈরি করা হয় বিধায় একে নকশি পিঠা বলা হয়।এই পিঠা খেতে বেশ মজা লাগে।এই পিঠা তৈরি করতে চালের গুড়া,পানি,লবন,ঘি,চিনি,গুড়,আপনি এটা তৈরি করার জন্য পরিমান মত পানি এবং ঘি দিয়ে ভালো করে ফুটাতে হবে।
তারপর এর মধ্যে চালের গুড়া দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে।এটা সেদ্ধ হলে আটার মত সেনে রুটির মত করুন এবং এটাকে বিভিন্ন আকারের বানিয়ে এতে নকশা তৈরি করুন। নকশা তৈরি হলে এটাকে তেলে ভাজুন। পিঠা ভাজা হলে এটাকে আবার চিনির সিরার মধ্যে দিয়ে আধা ঘন্টা রাখুন তারপর খাওয়ার জন্য প্রস্তুত এই পিঠা আপনি কয়েকদিন রেখে খেতে পারবেন।
আলু পাকোন পিঠা তৈরি
আলু পাকোন পিঠা তৈরি করতে যে সমস্ত জিনিস লাগবে তা হচ্ছে ময়দা,তরল দুধ,গুড়া দুধ,ঘি,চিনি,এলাচ,দারুচিনি,লেবুর রস,আলু,লবন।এগুলাে দিয়ে তৈরি হবে আলু পাকোন পিঠা।এই পিঠা তৈরির জন্য প্রথমে তরল দুধ জ্বাল দিতে হবে তারপর দুধ ফুটলে গুড়ো দুধ আর ঘি ময়দা দিয়ে সিদ্ধ করে নরম করতে হবে।আলুর ভর্তা তৈরি করতে হবে,এবার তৈরি করা ময়দা আর আলুর ভর্তা দুটোই ভালোভাবে মাখিয়ে রুটি বানাতে হবে।ময়দা মাখার সময় হাতে ঘি দিতে হবে।চিনির মধ্যে এলাচ,দারুচিনি দিয়ে সিরা করতে হবে এবং ঠান্ডা করে রাখতে হবে।রুটি তৈরি করার পর এটা বিভিন্ন আকারে কেটে তেলের মধ্যে ভাজতে হবে তারপর চিনির সিরার মধ্যে দিয়ে রাখতে হবে আধা ঘন্টা বেস হয়ে গেল আলু পাকোন পিঠা।
ঝিনুক পিঠা তৈরি
এই পিঠাকে কেউ বলে ঝিনুক পিঠা আবার কেউ বলে খেজুর পিঠা চলুন তাহলে জানা যাক কিভাবে এই পিঠা তৈরি করা হয়,আটা বা ময়দা,চিনি,নারিকেল কুচি,তৈল,এলাচ,দারুচিনি,একটি তালপাখা,আটা বা ময়দা নারিকেল কুচি,চিনি এগুলো দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে।তারপর ময়দা ঠান্ডা করে হাত দিয়ে ভালোভাবে পেষ্ট করে ছোট ছোট লম্বা টুকরো করে রাখতে হবে।
আরো পড়ুনঃ শীতকালীন শাক সবজি উপকারিতা ও পুষ্টিগুণাগুন
এর পর তালপাখা দিয়ে এই পাখার গোড়ার দিক দিয়ে এই পিঠার উপর চাপ দিতে হবে চাপ দিলে এটি ঝিনুকের মত দেখাবে,এখন এটাকে তেলের মধ্যে হালকা ভাবে ভাজতে হবে। তারপর চিনির সিরাই যার মধ্যে এলাচ,দারুচিনি দেওয়া থাকবে।এবার পিঠাটি এই চিনির সিরার মধ্যে দিয়ে একঘন্টা রাখতে হবে।তারপর তৈরি হয়ে গেলো ঝিনুক পিঠা খাওয়ার জন্য,এটা আপনি কয়েকদিন রেখে খেতে পারবেন।
বকুল পিঠা উপকরন,তৈরি পদ্ধতি
বকুল পিঠা একটা অত্যন্ত সুস্বাদু পিঠা এবং তৈরি পদ্ধতি সহজ,এই পিঠা তৈরি করতে নারকেল কুচি,গরুর দুধ,দারুচিনি,এলাচ,চিনি,তেজপাতা,কিসমিস,লং,এগুলো দিয়ে বকুল পিঠা তৈরি করতে হবে
প্রথমে একটা পাত্রে দুধ,চিনি,এলাচ,কিসমিস,তেজপাতা,দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে।এর পর এটি হালকা আচে চুলায় বা চুলা থেকে নামিয়ে রাখতে পারেন।
দ্বিতীয় ধাপে,পরিমান মত তেল নিয়ে এর মধ্যে তেজপাতা,লং,এলাচ,দারুচিনি, দিয়ে কিছুক্ষন নাড়তে হবে।এরপর নারকেল আর চিনি ভালোভাবে নাড়তে থাকুন চিনি আঠা আঠা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।
তৃতীয় ধাপে, আর একটা পাত্রে পরিমান মত তেল নিয়ে নারকেল আর চিনি দিয়ে তৈরি করা এটাকে গোল করে চ্যাপ্টা করে গুলানো ময়দার মধ্যে চুবিয়ে তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে ভাজা হলে বাদমি রং হলে নামিয়ে নিতে হবে।তারপর এটাকে ঘন দুধের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে।দুধে দেওয়ার ঘন্টা খানেক পর পিঠাগুলো দুধে ভিজে ফুলে গেলে পিঠা তৈরি হয়ে গেলো এখন আপনি খেতে পারবেন।
শেষ কথাঃ শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি
শীতের বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি,বাংলাদেশের শীতকালে গ্রামে বিভিন্ন ধরনের পিঠার আমেজ ও উৎসব দেখা যায়।কোথায় কোথায় দেখা যায় বিভিন্ন রকমের পিঠার মেলা।উরোক্ত আলোচনায় আমরা বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি শিখলাম এখন আমরা নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করতে পারবো।পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।
.jpg)

.jpg)
'https://www.ekralife.com/p/terms.html'
comment url