অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম

অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম,কাপড়ের ব্যবসা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।বর্তমানে অনলাইন এর ব্যবসা আগের চেয়ে অনেক জনপ্রিয় হয়েছে।শুধু অনলাইন ব্যবসা করলে হবে না এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং কৌশল।এই পোষ্টে আমরা জানবো কি ভাবে আপনি অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করবেন।

আমরা এখানে যেভাবে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম এই পোষ্টে লিখবো আপনি তা ভালো ভাবে পড়লে।অনলাইনে  ব্যবসার অনেক আইডিয়া পাবেন।এই ব্যবসা এখন ছেলে মেয়েরা ঘরে বসে মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে করছে।চলুন তাহলে জানা যাক কি ভাবে ব্যবসা করা যায়।

পেজ সূচিপত্রঃঅনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম

অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম

অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম,বর্তমান যুগ হচ্ছে ডিজিটাল যুগ এখন অনেকে অনলাইনে সহজে বিভিন্ন রকমের কাপড়ের ব্যবসা করছে।ডিজিটাল যুগে ফেসবুক,ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যেমে অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করে অনেকে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।শুধু ব্যবসা করলে তো হবে না ব্যবসায় সফল হতে হবে।আর সফল হতে হলে অনলাইন ব্যবসার নিয়ম কানুন জানতে হবে শিখতে হবে।


আপনি ঘরে বসে কিভাবে অনলাইনে মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যেমে কাপড়ের ব্যবসা করবেন।পৃথীবির বেশিরভাগ মানুষ চাকরি করে নয় ব্যবসা করে উন্নতি লাভ করেছে এবং ধনী হয়েছে।চাকরি থেকে ব্যবসাতে বরকত বেশি রয়েছে এবং নিজের ব্যবসায় স্বাধীনতা রয়েছে আপনি কারো অধীনস্ত নয়। আপনি চাইলে আপনার ব্যবসা কিছুদিন বন্ধ রেখে ভ্রমনে যেতে পারেন কেউ কিছু বলার নেই।

কোন ধরনের কাপড় নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন

কোন ধরনের কাপড় নিয়ে আপনি ব্যবসা শুরু করবেন তা আপনাকে আগে নির্বাচন করতে হবে।আগে আপনি পরিকল্পনা করবেন আপনি কোন ধরনের কাপড় নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।বাচ্চাদের,বড়দের ছেলে বা মেয়ে এর মধ্যে মেয়েদের থ্রি পিচ,বাচ্চাদের শুধু প্যান অথবা গেন্জি,বড়দের গেন্জি বা শার্ট এগুলোর মধ্যে আপনাকে আগে নির্বাচন করতে হবে।আপনার জন্য কোনটা ভালো হবে।

আগে আপনাকে বাজারে বা হাটে দেখতে হবে কোনটির চাহিদা বেশি বা একটা আইডিয়া নিতে হবে আপনার জন্য কোনটা ভালো হবে।আবার কিছু ইসলামিক পোশাক যেমন পান্জাবী পাইজামা টুপি এগুলো ঠিক করতে হবে।টাউজার জাতীয় পোশাক।অথবা আপনি সিজিনাল কাপড়ের ব্যবসা করতে পারেন যেমন শীতের সময় গরম কাপড় আবার গরমের সময় হালকা পাতলা কাপড় এর ব্যবসা করতে হবে।

বাজার গবেষনায় কি কি দেখবেন

বাজার গবেষনায় সর্বপ্রথমে আপনাকে দেখতে হবে আপনি কোন ধরনের পোশাক নিয়ে ব্যবসা করবেন এবং এর কাস্টমার কারা হবে।তারপর শহরে বা গ্রামে কোথায় করবেন।এর মধ্যে আপনার প্রতিযোগিতা কেমন আছে যে পোশাক বিক্রি করবেন তার বাজার মূল্য কত আপনার প্রতিযোগিরা কত দামে বিক্রি করছে।ব্যবসা শহরে বেশি না গ্রামে বেশি বেশি হলে কোন কাপড়ের ব্যবসা বেশি।

প্রথমে আপনাকে বাজার ধরতে হলে একটু কম দামে পোশাক বিক্রি করতে হবে।আর আপনাকে দেখতে হবে ফেসবুকে,ই-কমার্স এগুলোতে কোন কাপড়গুলো বেশি বেচাকেনা হচ্ছে।আপনি যদি বাজার গবেষনা ঠিকমত করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসার জন্য ভালো।এই জন্য বাজার গবেষনা একটু চিন্তা ভাবনা করে করতে হবে।

আপনার সরবরাহকারী কেমন হবে

আপনি ব্যবসা করার জন্য যেখান থেকে আপনার পণ্য কিনবেন পাইকারি দরে সে সাপ্লায়ার কেমন হবে, তার উপর আপনার ব্যবসা ভালো বা  মন্দ নির্ভর করবে।উন্নতি বা অবনতি।অনেক সরবরহকারী আছে, যারা প্রথমে ভালাে পণ্য দিবে পরে আবার নরমাল পণ্য ডেলিভারি  দেয়।এই জন্য সরবরাহকারী যেন ভালো হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।দেখা যাচ্ছে আপনি যে কোন ধরনের পণ্য নিলেন এর মধ্যে কোন সমস্য বের হলে যেন ফেরত নেয়।


তবে প্রথম ব্যবসা শুরু করলে সরবরাহকারী নাও নিতে পারে। আবার আপনি যখন কয়েকবার পণ্য নিবেন তখন সরবরাহকারীর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।কারন আপনি যদি কোন কাপড় সেল করতে না পারেন তখন ফেরত দিয়ে যেটা চলবে সেটা নিয়ে আপনি ব্যবসা করবেন।এই ভালো সাপ্লায়ার বাছাই করতে হবে,যেন আপনি অন্য সাপ্লায়ার থেকে কম দামে কাপড় কিনতে পারেন।

আপনার ব্যবসার ব্র্যান্ড নাম কেমন হবে

আপনার ব্যবসার একটি সুন্দর ব্র্যান্ড নাম দিতে হবে,যাতে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে।এই নাম হতে হবে ছোট এবং সুন্দর যা অন্য ব্যবসায়ীর সাথে না মিলে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।এই নামের সাথে একটা লোগো দিবেন যে লোগো আপনার ব্যবসার সাথে মিল থাকেকারন যারা পড়ালেখা জানে না তারা ও যেন বোঝতে পারে এটা আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য।ব্র্যান্ড নাম হবে এমন যাতে এক নামে সবাই চিনে।

ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ 

আপনি যখন অনলাইনে ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনাকে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ তৈরি করতে হবে।এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রচার, প্রসার করতে হবে এবং বিভিন্ন কাপড়ের ছবি দাম বা যাই হোক অর্ডার এর জন্য আপনাকে এখানে দিতে হবে।এখানে আপনার পণ্য যখন বিভিন্ন মানুষ দেখবে তখন আপনার কাছে অর্ডার করবে এবং আপনার পণ্য বিক্রি হবে।

ফেসবুক পেজ,ইনস্টাগ্রাম,ওয়েবসাইট,মার্কেটপ্লেস-যেমন ডারাজ,আজকেরডেল।এগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার প্ণ্য দিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।এগুলো মাধ্যে আপনার প্রোফাইল এবং কাভার ফটো সুন্দর দিতে হবে যেন দেখলে কাস্টমারের চোখ জুড়িয়ে যায়।এগুলো মধ্যে আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য সবকিছু তথ্য দিতে হবে যাতে আপনাকে সহজে পাওয়া যায়।

পণ্যের কোয়ালিটি, মান,স্থায়ীত্ব কেমন হবে

আপনার পণ্যের মান কোয়ালিটি কেমন এর বিস্তারিত লেখতে হবে।এগুলো এমন ভাবে লেখতে হবে যাতে কাস্টমার পড়লে নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কাপড়ের নাম আপনি কি কপড় বিক্রি করবেন,ছেলেদের নাকি মেয়েদের,বা বাচ্চাদের এগুলো লেখতে হবে।তারপর কাপড়ের বিভিন্ন সাইজ রং,দাম,ডেলিভারি খরচ আরো যদি পণ্যরে ভালো দিক থাকে তা লেখতে হবে।

কিছু ছবি সহ দিতে হবে।আপনার কাপড়ের কোয়ালেটি ভালো থাকলে এবং দাম একটা ক্রয়ের সামাথ্যর মধ্যে থাকলে সেল ভালো হবে। তবে আপনাকে প্রথমে পণ্য বিক্রিতে কম লাভ করতে হবে।যত কম লাভ করবেন আপনার সেল ততো বেশি হবে।এবং ব্যবসায় প্রসার হবে।

কাস্টমার সার্ভিস কেমন হতে হবে

দেখেন ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার হচ্ছে আপনার উন্নতি বা অবনতি। এই জন্য আপনাকে কাস্টমারের সাথে সর্বদা ভালো ব্যবহার করতে হবে।কোন কাস্টমার আপনার কাছ থেকে কোন কাপড় কিনে বাড়ি নিয়ে যায় আর কোন কারনে যদি ফেরত নিয়ে আসে যে আমি অন্যটা নিবো বা এটা ভালো লাগছে না, অনেক বিক্রেতা আছে কোন ফেরত হবে না নিতে চাই না।


এতে এই কাস্টমার চলে যাবে ঠিকই কিন্তু আর কোন দিন আপনার কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করবে না।এই জন্য পণ্য ফেরত না নিলে আগে বলে দিতে হবে বিক্রিত পণ্য ফেরত নেওয়া হয় না।এইটা বলে দিলে কাস্টমার ক্রয় করা পণ্য আপনার কাছে আনবে না এতে আপনার সাথে সম্পর্ক ভালো থাকবে।যাই হোক না কেন কাস্টমার ঠিক তো আপনার ব্যবসা ঠিক এটি মাথায় রাখতে হবে।

ডিজিটাইলেজেশন বা যুগের সাথে তাল মিলাবেন কেন

প্রতিনিয়ত সব কাস্টমার সব কিছু হাতের নাগালে পেতে চাই। এই জন্য আপনাকে ব্যবসার ক্ষেত্রে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।আপনাকে প্রতিনিয়ত মার্কেটের আপডেট তথ্য রাখতে হবে।নতু নতুন পোশাক,আধুনিক ডিজািইন,রুচিসম্মত পোশাক ব্রবসা বাড়ানোর জন্য কম দামে কোথায় ভালো পোশাক পাওয়া যায়।পণ্য ডেলিভারী দূত দেওয়া যায় কিভাবে,কাস্টমার প্রতি মাসে কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।অনলাইনের তথ্যসমূহ আপডেট করতে হবে।

শেষ কথাঃঅনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম

অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম,অনলাইন ব্যবসা প্রথমে তো ছোট পরিশরে করবেন পরে ব্যবসা বড় হলে আপনি যেখানে থাকেন সিটি কপোর্রেশন বা উপজেলা পরিষোধ থেকে ট্রেড লাইসেন্স করলে ভালো।আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক কাগজ পত্র ঠিক রাখতে হবে।ফেসবুক পেজ খুলার পর ফলোয়ার বাড়াতে বেশি বেশি তাহলে আপনার কাস্টমার বাড়বে।পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।








এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

comment url
Md. Golam Rasul
Md. Golam Rasul
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।