মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে

মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে,মালেশিয়া সহজে যাওয়া যায় এই জন্য অনেকে মালেশিয়া যেতে চাই।আবার কম খরচে যাওয়া যায়।কিন্তু আমরা জানি না যে সহজে কিভাবে যাওয়া যায়।এখানে এটাই আলোচনা করা হবে যে কম খরচে এবং সহজে আপনি কি ভাবে যাবেন।এখানে ৫-১০ বছর থাকলে আপনার জীবন বদলে যাবে।

কি সুন্দর মালেশিয়ার রাজধানী এই এখানে কে না যেতে চাই এখানে প্রবাসিরা যায় মূলত টাকা ইনকাম করার জন্য নিজের আর্থিক অবস্থাকে পরিবর্তন করার জন্য।চলুন তাহলে জানা যাক যে কিভাবে মালেশিয়া সহজে যাওয়া যায়। 

পেজ সূচিপত্রঃমালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে

মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে

মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে,মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নত দেশ এ দেশে মানুষরা দর্শনীয় স্থান দেখতেভ্রমন করতে যায়।এখানকার জীবনযাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ চোখ জুড়ানো দেখার মত স্থান রয়েছে। এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের আর ভালো কর্ম সংস্থানের সুযোগ থাকায়,মুসলিম-বান্ধব পরেবেশ থাকায় অনেকে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে ইচ্ছা পোষন করে থাকে।


বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে পড়াশুনা,কর্ম সংস্থান,বিভিন্ন ধরনের চাকরি,ব্যবসার জন্য যেতে আগ্রহী হয়। কিন্তু অনেকে জানে না। কিভাবে সহজ উপায়ে মালয়েশিয়া যাওয়া যায়।এই পোষ্টটিতে আমারা জানবো যে কিভাবে সহজে আপনি মালয়েশিয়া যাবেন।মালয়েশিয়া কেউ যায় ভ্রমনে কেউ যায় কাজের জন্য আবার কেউ যায় পড়াশুনা করতে।

কেন মালয়েশিয়া যাবেন

আসলে আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে যে, আপনি কেন মালয়েশিয়া যাবেন।এবং কি জন্য যাবেন কারন আপনি যে জন্য যাবেন বা যে কারনে যাবেন তার জন্য ভিসার প্রকারভেদ ভিন্ন হবে।ভিসার ধরন ঠিক থাকলে এবং বৈদ ভিসা থাকলে আপনি নিশ্চিন্তে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন।বেশির ভাগ মানুষ মালয়েশিয়া যায় কেউ চিকিৎসার জন্য,কেউ যায় পড়াশুনার জন্য,কেউ যায়,কাজের জন্য।

আবার কেউ যায় পর্যটন বা ভ্রমনের জন্য এই জন্য আপনার একটা সঠিক উদ্দেশ্য থাকবে যে আপনি কি করতে যাবেন।এখানে অনেকে যায় উদ্দেশ্য বিহীন যার উদ্দেশ্য থাকে সেখানে গিয়ে কাজ বা চাকরি খুজবে এভাবে গেলে একটি রিস্ক থাকে কারন আপনি যদি সেখানে যেয়ে আপনার পছন্দমত কাজ বা চাকরি না পান তাহলে আপনার টাকা সব বৃথা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপাই কি

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পন্থা হচ্ছে পর্যটন ভিসায় যাওয়া।কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তো যায় কাজের উদ্দেশ্য ভ্রমনের জন্য খুব কম যায়।কারন যাদের টাকা এবং সময় আছে শুধু তারা পর্যটনের জন্য যেয়ে থাকে।সাধারন মানুষ তো যায় কাজের জন্য।তবে পর্যটন ভিসায় যে সব সুবিধা আছে সেগুলো হচ্ছে, নিম্নে দেওয়া হলো
  • এই ভিসায়  সাধারনত ৩০ দিন থাকার অনুমোতি পাওয়া যায়।
  • এর আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ। 
  • এতে কাগজ পত্রের বেশি ঝামেলা নেই।
  • এই ভিসা খব দূত পাওয়া যায়।  
এই জন্য অনেকে ভ্রমনের জন্য সহজে যেতে পারে আর মালয়েশিয়াতে দেখার মত অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।যা দেখতে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে একটা সময় পর্যটকরা ভ্রমনের জন্য আসে এবং এদেশের পর্যটন শিল্প বেশ ভালো ব্যবসা করে থাকে প্রতি বছর।যা প্রায় অন্যন্য দেশের তুলনায় কম।

পর্যটক হিসেবে যেতে যে সব কাহজপত্র লাগে

পর্যটক হিসেবে যেতে বা ভ্রমনের জন্য তেমন কাগজ পত্র লাগে না।তবে কিছু কাগজ পত্র লাগে এটা এখানে তুলে ধরা হলো।
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস হতে হবে।
  • রিটার্ন এয়ার টিকেট।
  • অনলাইন ভিসা আবদেন ফরম।
  • হোটেল বুকিং বা আপনি যেখানে যাবেন তার ঠিকানা।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

পর্যটক হিসেবে যেতে কত সহজ যে আপনি যদি সঠিক পথে যান তবে আপনি নিশ্চিন্তে যেতে পানরেন কারন বেশি কাগজপত্র লাগে না।আপনি গিয়ে সেখানে দর্শনীয় স্থান দেখবেন আপনার প্রান জুড়িয়ে যাবে এই ফাকে যদি মনে করেন এক মাসে কোন কাজ বা চাকরি খোজ করে আসতে পারেন পরে গিয়ে করবেন।

কাজের জন্য যারা মালয়েশিয়া যাবেন

বেশিরভাগ মানুষ কাজের জন্য মালয়েশিয়া যেয়ে থাকেন।কারন প্রবাসি হিসেবে কে বেশিদিন থাকতে চাই।সবাই যায় টাকা ইনকাম করার জন্য।এই জন্য কাজের কারনে গেলে সঠিক পথে যেতে হবে এবং অর্জিনাল ভিসা নিয়ে যেতে হবে তাহলে আপনার টাকার কোন ক্ষতি হবে না বরং ৫-১০ বছর থেকে একটা ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।অনেকে বিদেশ যান টাকা পয়সা ধারদেনা করে কিন্তু পরে ধরা খেলে টাকার ক্ষতি হয় আবার পরিশ্রম সময় সবই নষ্ট হয়।

কাজের ভিসা প্রক্রিয়া

মালয়েশিয়া কোন কোম্পানি থেকে কাজের অফার পেতে হবে।

কোম্পানি সরকারিভাবে আপনার জন্য পারমেন্ট কাজের আবেদন করবে।

এই আবেদন অনুমোদন হলে ভিসা ইস্যু করা হবে।

যেগুলো কাজের জন্য যাবেন তা হচ্ছে নির্মান শ্রমিক,ফ্যাক্টরি কাজের,কোন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড,হোটেল বা রেস্টুরেন্ট এর কাজে।তবে এই গুলো কাজে অনেক সময মানুষ দালালের হাতে পরে টাকা ক্ষতি করে বসে সাধারন মানুষ এই জন্য এই দালাল এর হাতে যেন না পরেন সঠিক ভিসা নিয়ে যান এবং বৈধ উপায়ে সেখানে টাকা ইনকাম করুন।

পড়াশুনার জন্য যেভাবে যাবেন মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়াতে অনেক দেশ থেকে অনেক শিক্ষাার্থিরা যায় পড়াশুনার জন্য কারন এখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেখান থেকে ছাত্ররা উচ্চ শিক্ষা লাভ করে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করে থাকে।পড়াশুনার খরচ এখানে কম এবং ভালো ভালো শিক্ণা প্রতিষ্ঠান আছে।ছাত্রদের জন্য যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা আছে তা নিম্নে দেওয়া হলো

আরো পড়ুনঃ প্রতি সপ্তাহে চার হাজার টাকা পযন্ত আয় করুন

  • আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  • টিউশন ফি সাধারনত কম থাকে
  • পড়াশুনার পাশাপাশি আপনি পার্টটাইম চাকরি করতে পারবেন।
  • আপনি মুসলিম হিসেবে এখানে ভালো পরিবেশ পাবেন।

যা যা লাগবে আপনার:

  • বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদন
  • আফার লেটার আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন
  • ই এম জি  এস-এর মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন

ভিসার অনুমোদন

এর সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
  • পাসপোর্ট 
  • মেডিকেলের সঠিক রিপোট
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট

মালয়েশিয়া যাবার জন্য সাধারনত খরচ

পাসপোর্ট যদি না থাকে পাসপোর্টের জন্য ৪০০০-৭০০০টাকা

ভিসা ফি লাগবে ৪০০০-১০০০০টাকা

বিমানের টিকেট এর জন্য ৩৫০০০-৬০০০০টাকা

এবং আনুষঙ্গিক খরচ লাগতে পারে ১৫০০০-২০০০০টাকা

আপনার মোট খরচ হতে পারে ৫০০০০-১৩০০০০টাকা।এই খরচ আপনার ভিসার ধরন এবং বিমান টিকেটের উপর নির্ভর করবে।স্টুডেন্ট ভিসার জন্য গেলে সঠিক উপায়ে যেতে হবে এবং সরকারিভাবে গেলে ভালো। 

অসুস্থ রোগিদের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায়

উন্নত চিকিৎসার জন্য কম খরচে অনেকে মালয়েশিয়া যায়।যেহেতু রোগির জন্য তাই এই ভিসায় তাড়াতারি এবং সহজে যাওয়া যায়।মালয়েশিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার রোগি আসে।মেডিকেল ভিসা পাওয়ার জন্য যে সমস্ত সুবিধা 

  • দ্রুত ভিসা পাওয়া যায়
  • উন্নত চিকিৎসা এবং উন্নত ডাক্তার 
  • ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা সর্বক্ষন ডাক্তার সেবা

রোগি নিয়ে যেতে যে সমস্ত কাগজপত্র লাগে:

  • পাসপোর্ট ছবি 
  • চিকিৎসার জন্য ভিসা
  • চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র
  • হাসপাতালের ভর্তি লেটার
রোগিদের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়া আসা একটু ভালো ছাড় আছে কারন চিকিৎসার জন্য সব দেশে কম বেশি ছাড় থাকে।

মালয়েশিয়া পৌছানোর পর করনীয়

  • আপনাকে মালয় বা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে হবে।
  • ইমিগ্রেশন অফিসারের সাথে ঠিক ভাবে এবং সঠিক উত্তর দিতে হবে।
  • আপনার হোটেলের ঠিকানা বা কোন কোম্পানীতে গেলে তার ঠিকানা পরিষ্কার ভাবে বলতে হবে।
  • অতিরিক্ত টাকা নিয়ে না যাওয়া ভালো।
  • অযথা এদিক ওদিক ঘোরাফেরা যাবে না।
  • কোনকিছু জিজ্ঞাসা করতে হলে তথ্য কেন্দ্রে কথা বলুুন অথবা এয়ারপোর্টে যাত্রীসেবা অফিসারের সাথে কথা বলুন।
  • কোন ধরনের অবৈধ মালামাল বহন করবেন না।

শেষ কথাঃ মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে

মালয়েশিয়া যাওয়ার সহজ উপায় কিভাবে,আপনি মালয়েশিয়া যাবার অনেক উপাই জানতে পারলেন আশা করি এই পোষ্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন।সর্বদা সঠিক পন্থায় যান কোন বিপদে পড়বেন না। বরংআপনি ভালো থাকবেন এবং ৫-১০ বছরে ভালো একটা ইনকাম করে নিয়ে আসবেন।পোষ্টটি ভালো লাগলে আমার আরো অনেক পোষ্ট আছে পড়তে পারেন।এই পোষ্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নিয়মিত ইকরালাইফ ডট কম এ সার্চ করুন এবং নতুন নতুন পোষ্ট পড়ুন। ইন্সাআল্লাহ অনেক কিছু জানতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

'https://www.ekralife.com/p/terms.html'

comment url
Md. Golam Rasul
Md. Golam Rasul
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ব্লগ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ইকরালাইফ হলো একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ যেখানে অনলাইন ইনকাম,লাইফস্টাইল,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পকির্ত নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।পড়াশুনা অনার্স,মাস্টার্র,(ব্যবস্থাপনা বিভাগ),রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।